ভারতের এই হ্রদ গিরগিটির মতো রং পাল্টায়! ৫০ হাজার বছর আগের এক মহাজাগতিক রহস্য লুকিয়ে এখানে

প্রকৃতির খেয়াল বোঝা বড় দায়! ভারতের বুকেই লুকিয়ে আছে এমন এক বিস্ময়কর হ্রদ, যা ক্ষণে ক্ষণে নিজের রং পরিবর্তন করে। মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলার এই ‘লোনার হ্রদ’ (Lonar Lake) এখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কখনও ফিরোজা নীল, কখনও গাঢ় সবুজ, আবার কখনও টকটকে গোলাপি—ঠিক যেন এক মহাজাগতিক জাদুকরী আয়না।

কীভাবে তৈরি হলো এই রহস্যময় হ্রদ? বিজ্ঞানীদের মতে, আজ থেকে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মহাকাশ থেকে এক বিশালকার উল্কাপিণ্ড এসে আছড়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্রের এই ব্যাসল্ট শিলা স্তরে। সেই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছিল ১.২ কিলোমিটার ব্যাসের এবং ১৫০ মিটার গভীর এক বিশাল গোলাকার গহ্বর। এটি বিশ্বের একমাত্র উল্কাজাত হ্রদ যা আগ্নেয় শিলার ওপর অবস্থিত। এখানকার জল সমুদ্রের জলের চেয়েও সাত গুণ বেশি লবণাক্ত এবং ক্ষারীয়।

কেন রং পাল্টায় লোনার? গবেষকদের দাবি, এই হ্রদের জলের রাসায়নিক গঠন এবং বিশেষ কিছু অণুজীবের উপস্থিতির কারণেই এই রঙের খেলা চলে। বিশেষত ‘হ্যালোব্যাকটেরিয়াসি’ এবং ‘ডুনালিয়েলা স্যালিনা’ নামক অণুজীবের সংখ্যা যখন বাড়ে, তখন তারা লালচে বা গোলাপি রঞ্জক নির্গত করে। আবার শৈবালের আধিক্য হলে জল হয়ে ওঠে পান্না সবুজ।

চাঁদের সাথে গভীর সংযোগ: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, নাসার (NASA) বিজ্ঞানীরা এই হ্রদের সাথে চন্দ্রপৃষ্ঠের অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন। আইআইটি বম্বের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লোনার হ্রদের মাটির খনিজ পদার্থের সাথে অ্যাপোলো মিশনে আনা চাঁদের পাথরের হুবহু মিল রয়েছে। উচ্চ তাপ ও চাপে পাথর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এখানে ‘মাস্কেলিনাইট’ নামক পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণত মহাকাশীয় সংঘর্ষ ছাড়া তৈরি হয় না। পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়েও মহাকাশের স্বাদ নিতে চাইলে লোনার হ্রদ তাই সেরা গন্তব্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy