ভারতের আকাশ হবে আরও শক্তিশালী! এবার দেশেই তৈরি হবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন

ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস (GE Aerospace) এবং ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) যৌথভাবে ভারতে F414 যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরির জন্য অত্যন্ত জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

আলোচনার কঠিনতম পর্ব শেষ
জিই অ্যারোস্পেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিতা ফ্লাহের্টি এই ঐতিহাসিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির সবথেকে চ্যালেঞ্জিং পর্যায়টি এখন অতিক্রান্ত। প্রাথমিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৮০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT), যা গত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের সবুজ সংকেত পায়। এখন কোম্পানি দুটি বাণিজ্যিক আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইঞ্জিনের দাম, উৎপাদনের সময়সীমা এবং আজীবন টেকনিক্যাল সাপোর্টের মতো বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

ভারতীয় বায়ুসেনার নতুন তুরুপের তাস
F414 টার্বোফ্যান ইঞ্জিনটি প্রায় ৯৮ কিলোনিউটন থ্রাস্ট উৎপন্ন করতে সক্ষম, যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ডকে আরও শক্ত করবে। এই শক্তিশালী ইঞ্জিনটি ১২০টিরও বেশি ‘HAL তেজাস MK2’ যুদ্ধবিমানে স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, তেজাস MK2-এর প্রথম উড্ডয়ন এই বছরেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার ‘AMCA MK1’-এর প্রথম দুটি স্কোয়াড্রনও এই ইঞ্জিনের শক্তিতেই উড়বে। বর্তমানে বায়ুসেনার পুরোনো ফাইটার জেটগুলি পরিবর্তন করে আধুনিকীকরণের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলায় এই চুক্তি হবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও আগামীর লক্ষ্য
এই চুক্তিটি কেবল সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে HAL এখন দেশেই ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারবে, যা বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট থেকেও ভারতকে রক্ষা করবে। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। যদিও বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির কারণে কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবুও উভয় পক্ষই একটি লাভজনক ও কৌশলগত চুক্তিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ভারতেই শুরু হবে এই ইঞ্জিনের উৎপাদন, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy