“ভারতের আকাশপথের নতুন শক্তি! এবার দেশেই তৈরি হবে AMCA ফাইটার জেটের ইঞ্জিন, হাত মেলাচ্ছে রিলায়েন্স ও রোলস-রয়েস”

ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার পথে দেশ। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান AMCA (Advanced Medium Combat Aircraft)-এর জন্য দেশেই কমব্যাট ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারত। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যপূরণে এবার গাঁটছড়া বাঁধছে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সংস্থা রোলস-রয়েস।
কী এই নতুন উদ্যোগ? দুই সংস্থার প্রস্তাবিত এই যৌথ উদ্যোগ সফল হলে ভারতে যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের নকশা থেকে শুরু করে উৎপাদন, কঠোর পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের মতো পুরো ব্যবস্থাটি একই পরিকাঠামোর অধীনে চলে আসবে। শুক্রবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে একটি বিশেষ ‘অ্যারোস্পেস গ্যাস টারবাইন কমপ্লেক্স’ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কমপ্লেক্সটিকে ভবিষ্যতে বিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তির ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা (Defence Self-Reliance) গড়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুদ্ধবিমানের মতো জটিল সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরবরাহকারীর উপর ভারতের নির্ভরশীলতা দীর্ঘদিনের। উন্নত যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের প্রযুক্তি এখনও দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতেই এই যৌথ প্রচেষ্টা।
কাদের কী ভূমিকা থাকবে?
রোলস-রয়েস: তারা তাদের দীর্ঘদিনের অ্যারো-ইঞ্জিন টেকনোলজি এবং প্রোপালশন ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।
রিলায়েন্স: রিলায়েন্সের দায়িত্বে থাকবে উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরি, বৃহৎ মাপের প্রকল্প পরিচালনা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত দিকটি সামলানো।
এই উদ্যোগ শুধুমাত্র AMCA-এর ইঞ্জিন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রস্তাবিত এরোস্পেস গ্যাস টারবাইন কমপ্লেক্সটি ভবিষ্যতে উন্নত পাওয়ার ও প্রোপালশন টেকনোলজি তৈরির একটি বৃহত্তর কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের পাশাপাশি আগামী দিনে অন্যান্য উন্নত সামরিক ও বিমান প্রযুক্তির গবেষণাতেও এই পরিকাঠামোটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ভারতের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার প্রকল্পের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরি করতে পারলে, তা দেশের সামগ্রিক বিমান ইঞ্জিন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।