ভারতকে চাপে ফেলতে নতুন চাল পাকিস্তানের! মুসলিম দুনিয়াকে হাতিয়ার করে ‘আরব নেটো’ গঠনের চেষ্টা?

উপলক্ষ যাই হোক, পাকিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা করা। বিভিন্ন সময়ে সরাসরি যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে এবার কূটনৈতিক চালে মুসলিম বিশ্বকে একজোট করে ভারতকে চাপে ফেলার নতুন কৌশল নিয়েছে ইসলামাবাদ। আমেরিকা, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে তারা এই চাল চালছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে আমেরিকা ও চীনের মতো দেশগুলোরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি কাতারের দোহায় ইজরায়েলের হামাস বিরোধী হামলার পর ৪০টিরও বেশি আরব ও ইসলামিক রাষ্ট্র একটি জরুরি বৈঠক করে। সেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইজরায়েলের এই আক্রমণ এবং মুসলিম দুনিয়ার নিরাপত্তা। এই বৈঠকে পাকিস্তান একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব দেয়: নেটো (NATO)-র আদলে একটি সামরিক জোট গঠন করা, যার নাম হবে ‘আরব-ইসলামিক নেটো’। এই প্রস্তাবকে বেশিরভাগ দেশ সমর্থন করেছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার জোরালোভাবে বলেন যে, মুসলিম দেশগুলির সুরক্ষার জন্য এই ধরনের একটি জোট গঠন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ইজরায়েল নির্বিচারে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করছে। এই জোটের মাধ্যমে তারা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়।
পাকিস্তান, বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র এবং তুরস্ক, যারা নেটো-র সদস্য, এই জোটের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী। তুরস্ক এর আগেও ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সাহায্য করেছে। তাই এই ধরনের একটি জোট গঠিত হলে তা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের জন্য মোটেও ভালো খবর হবে না। পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য হলো কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে তুলে ধরা এবং সামরিক শক্তি দিয়ে মুসলিম দেশগুলিকে একত্রিত করা। পাক বিদেশমন্ত্রী দার এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয়েই এই বিষয়ে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে আশ্বস্ত করেছেন।
দিল্লি এই পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কারণ এই নতুন জোট গঠিত হলে তা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।