বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাঁকুড়ার সালতোড়ায় ফিরল সেই লড়াকু রূপকথা। গতকাল বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতেই দেখা গেল, একুশের সেই সাড়া জাগানো মুখ চন্দনা বাউরিকেই ফের সালতোড়া (SC) আসন থেকে প্রার্থী করেছে দল। দিনমজুরের স্ত্রী থেকে বিধায়ক হয়ে ওঠার যে নজির তিনি গড়েছিলেন, তাঁর ওপর পুনর্নির্বাচনের ভরসা কর্মীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে।
চন্দনা বাউরি—যাঁর স্বামী শ্রবণ বাউরি আজও দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা মজুরিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। যাঁর নিজের কোনো পাকা বাড়ি বা শৌচালয় ছিল না, যিনি একসময় ১০০ দিনের কাজেও শ্রমিকের কাজ করেছেন, সেই সাদামাটা গৃহবধূই এখন বঙ্গ বিজেপির অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন। গত নির্বাচনে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীকে ৪,০০০-এর বেশি ভোটে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন চন্দনা। তাঁর সততা আর লড়াইয়ের গল্পই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।
বিধায়ক হওয়ার পর তাঁর রাস্তা মোটেও মসৃণ ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর হামলার ভয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা দেয়। তবে চন্দনা জানান, নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁর পরিবারের সদস্যের মতোই হয়ে উঠেছেন। বিধায়ক হিসেবে গত কয়েক বছরে নিজের এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উন্নয়নে জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। চন্দনার কথায়, “আমি জানি কষ্ট কী, তাই চাই না আমার এলাকার মানুষ আর কষ্ট পাক।” বাঁকুড়ার এই ‘সাধারণ’ মেয়ের ওপর দ্বিতীয়বার বাজি ধরে বিজেপি কি পারবে কেল্লা ফতে করতে? নজর এখন ইভিএম-এর দিকে।