২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আবারও শিরোনামে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। শনিবার দুপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের কনভয় লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠল। মিছিলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
ঘটনার বিবরণ: সূত্রের খবর, এদিন ভাঙড়ের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দলীয় সমর্থকদের নিয়ে মিছিলে বেরিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। মিছিলটি কিছুটা এগোতেই দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে মিছিলের মধ্যে ঢুকে পড়ে একদল যুবক। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, আরাবুল ইসলামের গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ও ইট ছোঁড়া হয়। ঘটনায় গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মী আহত হয়েছেন।
আরাবুল শিবিরের অভিযোগ: এই হামলার জন্য সরাসরি নাম না করে আইএসএফ (ISF) এবং দলেরই একাংশ অর্থাৎ শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠদের দিকে আঙুল তুলেছে আরাবুল শিবির। আরাবুলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রতিপত্তি রুখতেই এই পরিকল্পিত হামলা। তবে তৃণমূলের অপর গোষ্ঠী এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘নিছকই গোলমাল’ বলে দাবি করেছে।
পুলিশি তৎপরতা: ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের হিংসা প্রশাসনের কপালে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভাঙড়ের এই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির জল এবার কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। তবে ভোটের আবহে ‘তাজা নেতা’র ওপর এই হামলা যে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।





