ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে এবার আত্মবিশ্বাসের সুর যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের গলায়। রবিবার ভাঙড়ের জাগুলগাছি এলাকায় ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান ভাঙড় প্রার্থী শওকত মোল্লার সমর্থনে এক বিশাল পথসভা ও মিছিলে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকেই ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং তাঁর দল আইএসএফ-কে তীব্র কটাক্ষ করে সায়নী দাবি করেন, “ভাঙড়ে আইএসএফ কোনো ফ্যাক্টরই নয়।”
এদিন প্রচারের মঞ্চ থেকে সায়নী ঘোষ বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনো মৌসুমি দল নয়, আমরা ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি।” নওশাদ সিদ্দিকীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত কয়েক বছরে এলাকায় কী উন্নয়ন হয়েছে তার হিসাব দিন বিধায়ক। অন্যদিকে, শওকত মোল্লার প্রশংসা করে তিনি জানান, শওকতের নেতৃত্বে একদিনেই ৬৫টি রাস্তার কাজ হয়েছে এবং সায়নীর নিজস্ব সাংসদ তহবিল থেকে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বর্তমানে ভাঙড়ে চলছে।
ক্যানিং পূর্ব থেকে শওকত মোল্লাকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করায় এলাকায় যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতেই এদিন সায়নী ঘোষ ও ক্যানিং পূর্বের নতুন প্রার্থী বাহারুল ইসলামকে নিয়ে এই শক্তি প্রদর্শন। লোকসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে ৮৭ হাজার ভোটের লিড পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সায়নী বলেন, “ভোটের মাধ্যমেই মানুষ জবাব দিয়েছে যে তাঁরা কার সাথে আছে।” বিজেপিকেও ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগে একহাত নেন তিনি। আইএসএফ-এর দুর্গ বলে পরিচিত ভাঙড়ে তৃণমূলের এই ‘আত্মবিশ্বাসী’ প্রচার রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।