২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিদি ও দিদি’ ডাক রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। তৃণমূল দাবি করেছিল, এটি বাংলার ঘরের মেয়েকে অপমান। ২০২৬-এর নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে শোনা গেল ‘এই দিদি’। আর এই শব্দবন্ধ ঘিরেই ফের নারী অবমাননার অভিযোগে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস।
কী ঘটেছে আসলে?
মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন অমিত শাহ। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগেই মোদীজি মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বিল এনেছিলেন, কিন্তু মমতা দিদি এই বিলকে ব্যর্থ করার কাজ করেছেন।” এই বক্তব্যের মাঝেই তাঁকে এক জায়গায় ‘এই দিদি’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়।
তৃণমূলের ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য:
শিক্ষা নেয়নি বিজেপি: ২০২১ সালে ব্যঙ্গাত্মক ডাকের মূল্য বিজেপিকে হার দিয়ে চোকাতে হয়েছিল। ২০২৬ সালেও অমিত শাহ একই ভুল করছেন।
অপমানের বদলা: তৃণমূল লিখেছে, “এই অপমান ক্ষমা করা হবে না। বাংলার মানুষ নিজেদের কন্ঠস্বরে বিজেপির পতন নিশ্চিত করবে।”
মুখ্যমন্ত্রী হবে ‘ভূমিপুত্র’, ভাইপো নয়: শাহ
তৃণমূলের আক্রমণের মাঝেই অমিত শাহ শালবনির সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মমতা দিদি মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন যে বিজেপি জিতলে বাইরের লোক মুখ্যমন্ত্রী হবে। আমি কথা দিচ্ছি, বাংলার পরের মুখ্যমন্ত্রী কোনো ‘ভাইপো’ হবে না, হবে এই বাংলারই কোনো ভূমিপুত্র এবং বিজেপির কার্যকর্তা।”
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে ‘ও দিদি’ ডাককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পক্ষে হাওয়ায় ভাসাতে সফল হয়েছিলেন। ২০২৬-এ অমিত শাহের মন্তব্যকেও একইভাবে হাতিয়ার করে জনআবেগ নিজেদের দিকে টানতে চাইছে তৃণমূল। এখন দেখার, এই ‘শব্দ-যুদ্ধ’ ইভিএমে কী প্রভাব ফেলে।





