‘ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে নিয়ে গিয়েছিল’, গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধ’ করে ফের ঘরে ফিরলেন বিজেপি নেতা! কী ঘটল বাঁকুড়ায়?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঁকুড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পঞ্চায়েত সদস্যরা ফের নিজেদের পুরনো দলে ফিরে আসায় বিপাকে পড়েছে তারা। ওন্দা ব্লকের চিঙ্গানী ও সোনামুখী ব্লকের মানিকবাজারের পর এবার ফের চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন সদস্য ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে ফিরলেন বিজেপিতে। এই ঘটনায় দলবদলু সদস্য তারাপদ পালের গায়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করে তাকে দলে ফিরিয়ে নিলেন বিজেপি নেতারা।

চলতি মাসেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় মোট তিন জন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সকলকে হারানোয় কার্যত মুখ পুড়ল তৃণমূলের। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন ভোটের আগে পঞ্চায়েতগুলো নিজেদের দখলে আনতে তৃণমূল তড়িঘড়ি বিজেপি সদস্যদের দলে টানতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

‘ভয় ও প্রলোভনে দলবদল’, অভিযোগ ফিরতি সদস্যদের

গত ৭ সেপ্টেম্বর সোনামুখী ব্লকের মানিকবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা শ্যামলী লোহার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু মাত্র আট দিন পরেই অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ফের বিজেপিতে ফিরে আসেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের যোগদানের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপিতে ফিরে আসেন চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য গণেশ মল্ল। এবার সেই একই ঘটনা ঘটল চিঙ্গানী পঞ্চায়েতের আরেক সদস্য তারাপদ পালের ক্ষেত্রে। গত মঙ্গলবার ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখার হাত ধরে তারাপদ পাল বিজেপিতে ফিরে আসেন। তারাপদ পালের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে এবং ছেলের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভুল করে এবং ভয়ে চলে গিয়েছিলাম, এখন ভুল বুঝে ফেরত এসেছি।”

‘ওরা নিরীহ মানুষ’, পাল্টা দাবি বিজেপির

বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা দাবি করেন, তৃণমূল ভুল বুঝিয়ে এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই সদস্যদের নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “ওরা আসলে বিজেপি করে। ভয় ও লোভ দেখিয়ে ওদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন তো ঝাড়ফুঁকের যুগ, তাই ব্রাহ্মণের ছেলে হিসেবে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ওদের ঘরে ফেরালাম।”

তবে তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, প্রবল চাপ দিয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্যদের বিজেপিতে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই দলবদল এবং ‘শুদ্ধিকরণের’ ঘটনা বাঁকুড়ার রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে।