জলপাইগুড়ি জেলার গরুমারা জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী মুন্সিপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এক অদ্ভুত আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আলমারির পাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা এক হলুদ-কালো ডোরাকাটা ছানাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ জাগে—এটি কি তবে লেপার্ডের বাচ্চা!
অস্বাভাবিক শব্দ শুনে বাড়ির মালিক প্রথমে প্রাণীটির উপস্থিতি টের পান। টর্চের আলো ফেলতেই বাদামি-হলদেটে নকশা-ওয়ালা ছোট্ট ছানাটিকে দেখে মুহূর্তে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বাড়ির জানলা বন্ধ করে দেন, আবার কেউ দূর থেকে মোবাইলে ছবি তুলতে শুরু করেন।
আতঙ্কের মাঝে বনকর্মীরা
গ্রামবাসীদের একাংশ ছানাটিকে বাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করলেও, ঠাণ্ডায় গুটিয়ে থাকা প্রাণীটি এক ইঞ্চিও নড়ছিল না। তার এই নিশ্চুপ আচরণ ভীতি আরও বাড়িয়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত বন দফতর ও পরিবেশকর্মীদের খবর দেওয়া হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ জাল ব্যবহার করে সাবধানে ছোট্ট প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার পর্ব চলাকালীন গ্রামবাসীদের চোখে তখনও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ছিল।
আসলে কী ধরা পড়ল?
তবে বনকর্মীদের এক ঘোষণাতেই গ্রামবাসীদের বুক থেকে নেমে যায় ভয়ের পাহাড়। তাঁরা জানান, ওই প্রাণীটি মোটেও লেপার্ডের ছানা নয়, এটি আসলে একটি বন বিড়ালের (Jungle Cat) বাচ্চা। লেপার্ডের মতো গায়ের নকশা থাকায় এই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। বন বিড়াল সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না এবং এরা অনেকটাই লাজুক প্রকৃতির।
বর্তমানে ছানাটি বন দফতরের হেফাজতে রয়েছে। তাকে উষ্ণতা, খাবার এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বনকর্তারা জানিয়েছেন, শরীর পুরোপুরি সুস্থ থাকলে খুব শিগগিরই তাকে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রথমে আতঙ্ক ছড়ালেও, শেষ পর্যন্ত নিরীহ প্রাণীটির নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তির হাসি ফুটেছে মুন্সিপাড়া এলাকার মানুষের মুখে।