ভয়াবহ পারিবারিক অশান্তি, স্ত্রীকে বাটখারা দিয়ে আঘাত, মেয়েকে খুনের চেষ্টা; এরপর আত্মঘাতী বাবা

পারিবারিক অশান্তি এবং চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে এবার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল নিমতার প্রতাপগড়ে। স্ত্রী ও মেয়ের মাথায় পাঁচ কিলোর বাটখারা দিয়ে আঘাত করে খুনের চেষ্টার পর আত্মঘাতী হয়েছেন এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রতিবেশীদের বয়ানে উঠে এল নতুন তথ্য
মৃত ব্যক্তির নাম গৌরাঙ্গ আচার্য, বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। তিনি একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন এবং প্রাইভেট টিউশন পড়াতেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন চলছিল, যা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র অশান্তি হত। প্রতিবেশীরা প্রায়শই তাঁদের বাড়ি থেকে ঝগড়ার শব্দ শুনতেন, এমনকি কখনও কখনও তাদের ঝগড়া থামাতে মধ্যস্থতাও করতে হত।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গৌরাঙ্গ আচার্য শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রীর স্বভাব ভালো ছিল না। প্রতিবেশীরা মনে করেন, তিনিই পরিবারে নানা অশান্তির কারণ ছিলেন।
কেমন ছিল সেই ভয়াবহ দৃশ্য?
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিট নাগাদ গৌরাঙ্গের শাশুড়ি বাড়িতে এসে দেখেন এক ভয়াবহ দৃশ্য। তাঁর ১১ বছরের নাতনি তৃষা আচার্য রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। আর জামাই গৌরাঙ্গ সিলিং ফ্যান থেকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন। দ্রুত মেয়েকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গুরুতর আহত স্ত্রী এবং মেয়ে
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৌরাঙ্গের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে এবং তার স্ত্রী মিলি আচার্যকে অচৈতন্য অবস্থায় পায়। দুজনকেই দ্রুত সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মা এবং মেয়ে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তবে কেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিবেশীদের এবং গৌরাঙ্গের শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।