ভয়ংকর খবর! ৭২ বছরের পুরোনো পুজো বন্ধ হতে পারে, তালা ঝুললো মণ্ডপে! পুরসভা-পুজো কমিটির দ্বন্দ্বে চিন্তার ভাঁজ মহেশতলার বাসিন্দাদের!

আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো শুরু। কিন্তু তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। পুরসভা এবং পুজো কমিটির মধ্যে জমি বিবাদের জেরে বন্ধ হতে বসেছে ৭২ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে পুজোর মণ্ডপে।

মহেশতলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কল্যাণ সমিতির পুজো এবার ৭২তম বর্ষে পড়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের জমিতে। কিন্তু সম্প্রতি মহেশতলা পুরসভা দাবি করেছে যে উদ্বাস্তু বিভাগ এই জমি তাদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং সেখানে একটি কমিউনিটি হল তৈরি করা হবে।

এই জমি-জট আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। একক বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, যতদিন পর্যন্ত জমি কার, তা নির্ধারিত হচ্ছে না, ততদিন পুজো যেখানে হয়ে আসছে সেখানেই হবে। আদালতের এই নির্দেশের পর পুজো উদ্যোক্তারা মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। অর্ধেক কাজও শেষ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু পুজো কমিটির অভিযোগ, মহেশতলা পৌরসভার চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাঠের দুটি গেটেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে মণ্ডপ। এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, ঠিকভাবে কাজ না এগোলে এবছর হয়তো পুজোই হবে না।

মহেশতলা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিধায়ক দুলাল দাস এই বিষয়ে বলেন, “এটি আর.আর. ডিপার্টমেন্টের জায়গা। তারা পৌরসভাকে এর দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা এখানে একটি কমিউনিটি হল তৈরি করতে চাই, কিন্তু পুজো উদ্যোক্তারা বাধা দিচ্ছেন।” পুজো আদৌ হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পুজো কোথায় হবে তা বলতে পারব না।”

অন্যদিকে, পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য শিবপ্রসাদ দাস জানান, “৭২ বছরের পুরনো এই পুজোকে পুরসভা বন্ধ করে দিচ্ছে। গত ৮ তারিখে চেয়ারম্যান নিজেই গেটে তালা দিয়ে গেছেন। এখন বলছেন পরবর্তী কোর্টের শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।” এই ঘটনায় পুজোর সঙ্গে যুক্ত আট থেকে আশি সকলের মধ্যেই হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।