ভয়ংকর অস্থিরতার মুখে বুলিয়ন মার্কেট! সোনা-রুপা কি এখন কিনবেন? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চমকে দেবে আপনাকে

আপনি কি সোনা বা রুপায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কথা ভাবছেন? তবে আগামী সপ্তাহটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সোনা ও রুপার দাম বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন বুলিয়ন মার্কেটের গতিপথ নির্ধারণ করবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ঘটনা।

বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে যেসব কারণ:

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা অপরিশোধিত তেলের দামকে প্রভাবিত করতে পারে। তেলের দামের অস্থিরতা সরাসরি সোনা ও রুপার দরে বড় প্রভাব ফেলে।

  • ফেড-এর সুদের হার ও অর্থনৈতিক তথ্য: আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের পিএমআই (PMI) ডেটা, মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং মার্কিন অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ পাবে। এই পরিসংখ্যানগুলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেবে, যা বাজারের মূল চালিকাশক্তি।

  • ডলারের শক্তি ও মুদ্রাস্ফীতি: মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থানের কারণে গত সপ্তাহে সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (PCE) মুদ্রাস্ফীতির তথ্য কিছুটা আশাব্যঞ্জক হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও সোনা কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন।

গত সপ্তাহে যা ঘটল বাজার বিশ্লেষক প্রণব মীরের মতে, বর্তমানে সোনা ও রুপা উভয়ই একটি ‘সংশোধন’ (Correction) পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ৩.৫% কমে প্রতি আউন্স ৪,০৯৬.৩ ডলারে এবং রুপার দাম প্রায় ১০.৭% কমে ৫৯.৬৭ ডলারে নেমেছে। দেশীয় বাজারেও (MCX) এর বড় প্রভাব পড়েছে; ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৪৪ লক্ষ টাকা এবং প্রতি কেজি রুপার দাম ২.২৩ লক্ষ টাকার আশেপাশে ওঠানামা করছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ জেএম ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ও এলকেপি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের মতে, যদিও ডলারের দাম এবং তেলের দরপতন সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তবুও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতা এবং ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির মতো বিষয়গুলো বাজারকে কিছুটা ভারসাম্য দিচ্ছে।