টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা রুদ্রনীল ঘোষের জন্য এবারের লড়াইটা অস্তিত্বের। গতবার দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হারলেও, ২০২৬-এ তাঁর রণক্ষেত্র বদলেছে। এবার তিনি প্রার্থী নিজের ঘরের মাঠ শিবপুরে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সামাজিক মাধ্যমে কবিতার খোঁচায় শাসকদলকে বিঁধলেও, ভোটের বাক্সে কি রুদ্রনীল ম্যাজিক দেখাতে পারবেন?
অঙ্কের হিসেবে তৃণমূলের দুর্গ: পরিসংখ্যান বলছে, শিবপুর বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। গত পাঁচবারের নির্বাচনের চারবারই জিতেছে ঘাসফুল শিবির।
-
২০২১-এর ফলাফল: মনোজ তিওয়ারি প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়েছিলেন। তৃণমূলের ঝুলিতে ছিল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট।
-
২০২৪-এর লোকসভা: হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শিবপুরে তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটের লিড পেয়েছিলেন।
রুদ্রনীলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ: বিশেষজ্ঞদের মতে, রুদ্রনীলকে জিততে হলে অন্তত ১০ শতাংশ তৃণমূল সমর্থকের ভোট নিজের দিকে টানতে হবে (Vote Swing)। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের ডাক্তার রানা চট্টোপাধ্যায়, যিনি গতবার বালি থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। ফলে এক হেভিওয়েট বনাম তারকার লড়াইয়ে জমে উঠেছে হাওড়ার এই কেন্দ্র।
ফ্যাক্টর ‘জটু লাহিড়ি’ ও বাম ভোট: শিবপুরের রাজনীতিতে প্রয়াত জটু লাহিড়ি ছিলেন মহীরুহ। তাঁর প্রয়াণের পর এই প্রথম নির্বাচন। জটু অনুগামীদের ভোট কোন দিকে যায়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। পাশাপাশি, বামেদের ২৬ হাজার ভোট (২০২৪-এর হিসেব অনুযায়ী) যদি কোনওভাবে বিজেপির দিকে ঘোরে, তবেই বিপাকে পড়তে পারে শাসকদল।
জনগণের ইস্যু বনাম প্রচার: শিবপুরের রাস্তাঘাট, নিকাশি সমস্যা এবং বেকারত্ব—এই তিন ইস্যুকে হাতিয়ার করেছেন রুদ্রনীল। অন্যদিকে, রানা চট্টোপাধ্যায়ের বাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।