ভবানীপুরে হানা দিয়ে থাইল্যান্ডের দুই তরুণীকে আটক করল এসটিএফ! উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মাদক, চাঞ্চল্য শহরে!

কলকাতার বুকে ফের এক বড়সড় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের হদিশ মিলল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত পাক্কা খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ডের দুই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা ভবানীপুর থেকে ওই দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে জেরা করার পর তাদের باقاعدہ গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এসটিএফের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে ভবানীপুরের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাইল্যান্ড থেকে আসা দুই তরুণী বিপুল পরিমাণ মাদক মজুত করে রেখেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অতর্কিতে অভিযান চালায় গোয়েন্দারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে ধৃত দুই তরুণীই থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং তারা কিছুদিন আগেই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পুলিশ তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য ভ্রমণ নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছে সেগুলি আদৌ বৈধ কি না। ঠিক কোন উদ্দেশ্যে তারা কলকাতায় পা রেখেছিল, এই বিপুল পরিমাণ মাদক কোথা থেকে এবং কীভাবে তাদের হাতে এল, কিংবা তারা এই চক্রের মূল পাণ্ডা নাকি নিছক বাহক বা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করছিল—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই দুই তরুণীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো মাদক চোরাচালান চক্রের গভীর যোগ থাকতে পারে। তারা এই বিপুল মাদক কোথায় পাচার করার ছক কষেছিল বা শহরের কোনো নির্দিষ্ট ডেরায় তা সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। কলকাতার মতো মেট্রোপলিটন শহরে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহার করে এই ধরনের মাদক পাচার চক্র কীভাবে শিকড় গেড়েছে, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ এখন এই চক্রের বাকি সহযোগীদের খুঁজে বের করতে এবং আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সূত্রগুলো খতিয়ে দেখতে শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডস বিশ্লেষণ করছে।