বাংলার মসনদ হাতছাড়া হয়েছে সোমবারই। ১৫ বছরের শাসনকালে ইতি টেনে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নিজের খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রেও ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এই চরম বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হারের গ্লানি থাকলেও, তাঁর গলায় শোনা গেল প্রতিবাদের সুর।
“আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গ” এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এতদিন আমি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলাম, অনেক বাধ্যবাধকতা ছিল। অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি সাধারণ মানুষ। একজন মুক্ত বিহঙ্গ। তাই আর কোনো অত্যাচার সহ্য করব না। আমি রাস্তার লোক, লড়াই করেই বড় হয়েছি। আমি রাস্তাতেই ছিলাম এবং আগামী দিনেও রাস্তাতেই থাকব।”
ভবানীপুরে ভরাডুবি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ফলের পাশাপাশি খোদ দলনেত্রীর হার রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত হতেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে থাকা সিজ়ার্স ব্যারিকেড ও কড়া পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, “২০০৪ সালেও এমন পরিস্থিতি দেখিনি। ১৯৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুধু শুনেছিলাম, আজ চোখে দেখলাম। এই সরকার সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে।” পাশপাশি, মহিলা হিসেবে তিনি বারবার অপমানিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? পরাজয়ের ধাক্কা সামলে তৃণমূল কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? সেই রণকৌশল অবশ্য এখনই খোলসা করতে চাননি নেত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সমস্ত কর্মীদের পাশে দল আছে এবং লড়াই জারি থাকবে। এদিনের বৈঠকে মমতার পাশে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো শীর্ষ নেতারা।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এখনই রাজনীতি থেকে সরছেন না, বরং ‘রাস্তার লোক’ হিসেবে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার ইঙ্গিত দিলেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এখন দেখার, এই বিপর্যয়ের পর ঘাসফুল শিবির আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে।





