মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘অর্থহীন যুদ্ধ’ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘আন্তরিক প্রতিশ্রুতির অভাব’-এর জেরে বড় পদক্ষেপ নিলেন। দেশটির দুই বৃহত্তম তেল কোম্পানি Lukoil এবং Rosneft-এর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি রাশিয়ার শক্তি খাতকে চাপ দিতে এবং যুদ্ধের জন্য ক্রেমলিনের আয়ের উৎসকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে। বেসেন্ট বলেন, “আজকের পদক্ষেপগুলি রাশিয়ার জ্বালানি খাতে চাপ বাড়াবে এবং ক্রেমলিনের যুদ্ধযন্ত্রের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষমতাকে দুর্বল করবে।”
সম্পদ ফ্রিজ ও ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে Lukoil এবং Rosneft-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পদ ব্লক করা হয়েছে। একই সাথে, আমেরিকানদের এই দুটি সংস্থার সাথে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়েছে। বেসেন্ট মিত্র দেশগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারত ও চীনের জন্য ব্যতিক্রম কেন?
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি থেকে চীনা এবং ভারতীয় ক্রেতাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে, যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনেন।
ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কে ফাটল
শান্তি আলোচনা স্থবির থাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপর ট্রাম্পের ধৈর্য কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি পুতিনের সাথে হাঙ্গেরিতে একটি পরিকল্পিত বৈঠক স্থগিত করে বলেন, “এটি ঠিক মনে হয়নি।” ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যতবারই আমি ভ্লাদিমিরের সাথে কথা বলি, ভালো কথা হয়, কিন্তু তারপর কোনোদিকেই এগোয় না। তারা শুধু এগোয় না।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৯তম প্যাকেজ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার দিনেই, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই নতুন প্যাকেজে রাশিয়ান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও, আরও রুশ কূটনীতিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং মস্কোর ‘শ্যাডো ফ্লিট’ তালিকায় নতুন জাহাজ যুক্ত করা হয়েছে।