ব্রিকস সামিটে প্রযুক্তির মহাযজ্ঞ! বিশ্বনেতাদের চোখ ধাঁধাতে ভারত মণ্ডপমে হাজির ৩৭টি অবিশ্বাস্য দেশীয় আবিষ্কার

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ভারত ইনোভেটস’ (India Innovates) প্রদর্শনী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা এই বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন। শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা প্রদর্শনীতে দেশের সেরা ৩৭টি ডিপ-টেক (Deep-Tech) বা গভীর-প্রযুক্তির উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রের চমকপ্রদ সব স্টার্টআপের সৃষ্টি জায়গা পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ভাসমান সৌর পিভি প্ল্যাটফর্ম, অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সামনে ভারতীয় গবেষকদের এই উদ্ভাবনগুলোকে তুলে ধরে বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান শক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর আগে ফ্রান্সের নিস শহরেও এই ব্র্যান্ডিং প্রদর্শনী দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল।

এদিকে, সম্মেলনের মূল আলোচনার টেবিলে বড় সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন যে, কোনো সদস্য দেশের আপত্তি ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গৃহীত হয়েছে। যৌথ এই ঘোষণাপত্রে পারস্পরিক সংলাপ, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে চলমান দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের প্রস্তাব এবং ব্রিকস মঞ্চে ‘মোদি কূটনীতি’র প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আর রাজনৈতিক ঐকমত্যের এই মেলবন্ধন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।