ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করে চীন আবারও তার আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করায় পাল্টা কৌশলগত পদক্ষেপ নিল ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর ৬.৪ লক্ষ কোটি টাকার (৭৭ বিলিয়ন ডলার) বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (CEA) সোমবার এই বিশাল পরিকল্পনার ঘোষণা করেছে। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে ৭৬ গিগাওয়াটেরও বেশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
সিইএ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় উত্তর-পূর্ব রাজ্যের ১২টি উপ-অববাহিকায় ২০৮টি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার সম্ভাব্য ক্ষমতা ৬৪.৯ গিগাওয়াট। এছাড়াও, পাম্প-স্টোরেজ প্ল্যান্ট থেকে অতিরিক্ত ১১.১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
ব্রহ্মপুত্র নদ চীনের তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত জুলাই মাসে চীন তিব্বত অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলে ভারত এই বাঁধের প্রভাব সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ভারত আশঙ্কা করছে, চীনের এই বাঁধ ভারতীয় ভূখণ্ডে জলপ্রবাহ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চীন বাঁধটির অপব্যবহার করে নিম্নাঞ্চলের অঞ্চলগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও মনে করছে নয়াদিল্লি।
তিব্বতের মালভূমির সীমান্তবর্তী ইয়ারলুং সাংপো নদীর উপর চীনের বাঁধ নির্মাণের খবরের পরেই ভারত অরুণাচল প্রদেশে দেশের সর্বোচ্চ বাঁধ ‘দিবাং প্রকল্প’ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকার পরিচালিত এনএইচপিসি লিমিটেড মূল বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৭,০৬৯ কোটি টাকার একটি দরপত্র ডেকেছে। এই ২৭৮ মিটার উঁচু বাঁধটি হবে ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ। এর বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১১,২২৩ মিলিয়ন ইউনিট। দিবাং বাঁধটি ২০৩২ সালের মধ্যে অর্থাৎ ৯১ মাসের মধ্যে নির্মিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা চীনের বাঁধ থেকে হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়া জল আটকানো এবং ভারতে বন্যা রোধ করার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।