ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার! তেলের বাজারে আগুন, ভারতের জন্য কি তবে চরম সংকট অপেক্ষা করছে?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যালেন্স হারিয়ে পৌঁছেছে ১১৯ ডলারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ভারতের জন্য রাশিয়ান তেল আমদানির ওপর ৩০ দিনের ছাড় (৫ মার্চ – ৪ এপ্রিল) ঘোষণা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ভারতের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
আমেরিকার এই ছাড়ের ফলে ভারতে আটকে থাকা ১ কোটি ব্যারেলেরও বেশি রাশিয়ান তেল আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। কিন্তু নোমুরার প্রধান অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মার মতে, ভারতের প্রতিদিনের ৫০ লক্ষ ব্যারেল চাহিদার তুলনায় এই তেল নগণ্য। বর্তমানে সমুদ্রসীমানায় থাকা মজুত তেল দেশের মাত্র ৪ দিনের চাহিদার সমান। ফলে এই পণ্যবাহী জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে।
এদিকে বিশ্ববাজারে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি-তে। আরবিআই-এর গবেষণা বলছে, তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি ৩০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে এবং জিডিপি ১৫ বেসিস পয়েন্ট কমতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ভারতের আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করলেও, বর্তমানে তা ২০-২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে, এই ৩০ দিনের ছাড় লজিস্টিক বাধার কিছুটা সুরাহা করলেও, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে ভারতকে বাঁচাতে এটি যথেষ্ট নয় বলেই মত বিশ্লেষকদের।