মোবাইল স্ক্রল করলেই চোখ কপালে! অনিদ্রা ও মানসিক চাপ দূর করার প্রাচীন মহৌষধ এই ‘শিরোধারা’

শরীর ও মনকে সম্পূর্ণ শিথিল বা চাঙ্গা করার জন্য আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রাচীন এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘শিরোধারা’। এই বিশেষ চিকিৎসায় কপালের একটি নির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল অংশে খাঁটি তেল বা অন্য কোনো উপযুক্ত আয়ুর্বেদিক তরল অবিরাম ও ধীরে ধীরে ধারার আকারে ঢালা হয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ মতে, মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং চরম ক্লান্তি দূর করতে এই থেরাপির জুড়ি মেলা ভার।
লোকাল১৮-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট বৈদ্য ডঃ অভিষেক কুমার মিশ্র ব্যাখ্যা করেন যে ‘শিরোধারা’ শব্দটি মূলত দুটি সংস্কৃত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—”শির” যার অর্থ মাথা এবং “ধারা” যার অর্থ অবিরাম প্রবাহ। এই প্রক্রিয়ায় রোগীকে একটি আরামদায়ক ভঙ্গিতে শুইয়ে রাখা হয় এবং মাথার ঠিক উপরে ঝোলানো পাত্র থেকে কপালের মধ্যভাগে একটানা তেল বা তরল ফেলা হয়। চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই তরলের ধরন মূলত রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে।
ডঃ মিশ্র জানান, বর্তমান যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ, অ্যাংজাইটি এবং নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যাগুলি নিরাময়ে শিরোধারা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সারাদিনের ধকল, টেনশন এবং মানসিক অবসাদ দূর করে মনকে শান্ত করতে এটি দারুণ সাহায্য করে। তবে তিনি এও সতর্ক করেছেন যে, সবার জন্য এই থেরাপি উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, কোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঘরে বসে নিজে নিজে করার বদলে সর্বদা একজন প্রশিক্ষিত আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই এটি করা উচিত।