ইন্দোরে বুলডোজার ও সাফাই ধর্মঘটের জেরে চরম বিশৃঙ্খলা! প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র এলাকা

ইন্দোরে বর্তমানে এক অদ্ভুত ও বিপরীতধর্মী চিত্র ফুটে উঠছে। একদিকে শহরের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য চলছে বড় পরিসরে অবৈধ দখল উচ্ছেদের মেগা অভিযান, অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে ভেঙে পড়েছে শহরের সামগ্রিক পয়ঃনিষ্কাশন ও জঞ্জাল অপসারণ ব্যবস্থা। প্রশাসন এবং পৌরসভা যৌথভাবে বহুল প্রতীক্ষিত আরই-২ (RE-2) প্রকল্পের তিন বছরব্যাপী সংযোগ প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য একটি কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বেঙ্গলি স্কোয়ার এবং পিপলিয়ানার মধ্যবর্তী সড়ক নির্মাণে বাধা সৃষ্টিকারী তিনটি প্রধান বসতি—পিপলিয়ানা-শেরকানকাড়, শিবনগর এবং শিব দর্শন নগরে বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের উপর চড়াও হয়ে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে, যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে। এই অভিযানে পিপলিয়ানা-শেরকানকাডে ৭০টিরও বেশি, শিবনগরে ১১separatedBy এবং শিব দর্শন নগরে ৭২টি বাড়ি সহ মোট প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও পৌর সংস্থার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, এই প্রশাসনিক তত্পরতার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত ইন্দোরের মুকুট খসার উপক্রম হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধর্মঘটের জেরে। বাল্মীকি সম্প্রদায় ও সাফাই কর্মীরা তাঁদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতিতে নেমেছেন। এর ফলে নেহেরু নগর সহ বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় আবর্জনার বিশাল স্তূপ জমে গেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় এবং ট্রাফিকের অভাবে রাস্তায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন এখন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।