বোনের নিখুঁত চিকিৎসার নাম করে লাখ লাখ টাকা লুট! নেটিজেনদের চোখে জল আনা এই তরুণের আসল সত্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড়

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) আবেগঘন পোস্ট দেখে যাঁরা নিজেদের জমানো টাকা দান করেছিলেন, তাঁরা এখন মাথায় হাত দিচ্ছেন। বোনের চোখের অস্ত্রোপচারের নাম করে সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দেড় লাখ টাকারও বেশি তোলার পর সামনে এলো মারাত্মক এক জালিয়াতি। জাল চিকিৎসাপত্র ও ভুয়ো গল্প ফেঁদে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এখন ইন্টারনেটে কাঠগড়ায় জয় সিং রাঠোর নামের এক তরুণ।

ঘটনার সূত্রপাত এক্স-এ পোস্ট করা একটি ক্রাউডফান্ডিং আবেদনকে কেন্দ্র করে। অসুস্থ বোনের চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না দাবি করে সাহায্য চান জয় সিং। তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে নেটিজেনদের অনেকেই এগিয়ে আসেন। কেউ নিজের টিউশন বা ইন্টার্নশিপের স্টাইপেন্ডের টাকা পাঠান, তো কেউ আবার ঘরভাড়ার জন্য রাখা সঞ্চয়টুকুও তুলে দেন তাঁর হাতে। অল্প সময়ের মধ্যেই দেড় লক্ষ টাকার বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়।

তবে বেশিদিন এই প্রতারণা ধামাচাপা থাকেনি। সংগৃহীত নথিপত্র এবং দিল্লির খ্যাতনামা ‘শ্রফ আই সেন্টার’-এর লেটারহেডে দেওয়া প্রেসক্রিপশন খতিয়ে দেখতেই চোখ ছানাবড়া নেটিজেনদের। হাসপাতালেই যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই লেটারহেড ও এস্টিমেট শিট সম্পূর্ণ জাল। এমন কোনো রোগী তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নথির অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ তোলা হচ্ছে।

জালিয়াতির খবর ছড়াতেই তোলপাড় শুরু হয় নেটপাড়ায়। এক্স স্পেসের (X Spaces) একাধিক লাইভ সেশনে নেটিজেনরা ছেঁকে ধরেন জয় সিংকে। প্রশ্নের মুখে পড়ে লাইভেই ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত তরুণ। দায় স্বীকার করে তিনি সাফাই দেন, বোনের নাম ব্যবহার করলে মানুষ বেশি সহানুভূতি দেখাবে ভেবেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছিলেন, তবে সংগৃহীত টাকা নাকি তাঁর অসুস্থ বাবার জন্য প্রয়োজন ছিল।

চাপের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ নেটিজেনদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার দাবি করেছেন অভিযুক্ত। তবে এক্স-এ চার পর্বের দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিধিনিষেধ উঠে গেলেই প্রতারিত প্রত্যেক ডোনারকে তাঁদের শেষ পয়সাটি পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জয় সিং রাঠোর। তবে এই ঘটনার পর অনলাইনে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শতবার ভাবতে হবে বলে সরব হয়েছেন প্রতারিত নেটিজেনরা।