উৎসবের মুখে গৃহিণীদের জন্য বিরাট খবর! রাত পোহালেই সস্তা হচ্ছে রান্নার তেল, শুল্ক কমাল কেন্দ্র

দুর্গাপুজো সহ আসন্ন উৎসবের মরসুমের ঠিক আগেই সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্র। বাজারে রান্নার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক অপরিশোধিত (Crude) ও পরিশোধিত (Refined) ভোজ্য তেলের ওপর আমদানি শুল্ক (Import Duty) উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।
নতুন এই শুল্কহার আজ মধ্যরাত থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে। ফলে পাম তেল, সয়াবিন তেল এবং সূর্যমুখী তেলের পাইকারি ও খুচরো দাম কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোন তেলে কতটা কমল শুল্ক?
সরকারের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোজ্য তেলের আমদানি খরচ কমাতে দু’ধরনের কাস্টমস ডিউটিতেই বড় কাটছাঁট করা হয়েছে:
অপরিশোধিত তেল (Crude Oil): অপরিশোধিত সয়াবিন এবং পাম তেলের ওপর বেসিক কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে একেবারে শূন্য (০%) করে দেওয়া হয়েছে।
পরিশোধিত তেল (Refined Oil): পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, পরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২.৫ শতাংশে।
বাজারে কীভাবে প্রভাব ফেলবে এই সিদ্ধান্ত?
ভারতে ভোজ্য তেলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশই অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং দেশের আমদানি শুল্ক— এই দুটি বিষয়ই সরাসরি প্রভাব ফেলে স্থানীয় বাজারের খুচরো দরদামে।
কাস্টমস ডিউটি এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়ার ফলে বিদেশ থেকে ভোজ্য তেল আনার খরচ কমবে। আমদানিকারকদের এই বাড়তি সাশ্রয়ের সুবিধা যদি পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতারা আমজনতার কাছে পৌঁছে দেন, তবে খুব শীঘ্রই বোতলজাত রান্নার তেলের লিটার প্রতি দাম কমে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল দর এবং স্থানীয় পরিবহণ খরচের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে।
উৎসবের মুখে কেন এই পদক্ষেপ?
সামনেই বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো, তার পরপরই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ও দেওয়ালি। এই সময়ে প্রতিটি গৃহস্থেই রান্নাবান্নার পর্ব বাড়ে, পাশাপাশি মিষ্টি ও বিভিন্ন পদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বাজারে ভোজ্য তেলের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই অতিরিক্ত চাহিদার সময়ে বাজারে যেন তেলের জোগান কম না পড়ে এবং দাম যাতে আমজনতার নাগালের বাইরে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
এখন দেখার বিষয়, আজ মধ্যরাত থেকে শুল্ক কমার পর আগামী দু-এক দিনের মধ্যে খুচরো বাজারে লিটার প্রতি পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম ঠিক কতটা সস্তা হয়।