সেনসেক্স ১২০০ ডাউন, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের! এক ভুলেই নিভে গেল বাজারের আলো?

এক লহমায় বদলে গেল দেশের শেয়ার বাজারের চিত্র। যাকে বলে একেবারে ‘রক্তাক্ত’ পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রেডিং শুরু হতেই নামতে থাকে একের পর এক শেয়ারের গ্রাফ। দিনের শেষে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স কমেছে ১২২৮ পয়েন্ট, থমকে দাঁড়িয়েছে ৭৩,৬০০ পয়েন্টের ঘরে। পিছিয়ে নেই নিফটি ৫০-ও। ৩৭৫ পয়েন্টের বড়সড় পতন ঘটিয়ে ২৩,০৭০-এ এসে ঠেকেছে এটি।

বহুদিন পর ভারতীয় শেয়ার বাজারে এমন অভূতপূর্ব পতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের রক্তচাপ বাড়তে শুরু করেছে।

কী কারণে এই প্রলয়ঙ্করি ধস?

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ আঙুল তুলছেন দেশের বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-এর (Insurance Regulatory and Development Authority of India) এক সাম্প্রতিক প্রস্তাবনার দিকে। বিমা বিপণন ও বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা আনতে সংস্থাটি কয়েকটি বড় সংস্কারের কথা বলেছে।

IRDAI-এর প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকদের জোর করে বিমা গছানো পুরোপুরি বন্ধ করা।

  • বিমা বিক্রি নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা নিষিদ্ধ করা।

  • বিমা কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং এজেন্ট বা কমিশন পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা (Cap) বেধে দেওয়া।

কোথায় বাঁধল মূল সমস্যা?

উপর ওপর দেখলে এই সিদ্ধান্ত আমজনতা বা বিমা গ্রাহকদের স্বার্থে হলেও, বিমা কোম্পানি ও ব্রোকারেজ ফার্মগুলোর জন্য বড় ধাক্কা। কমিশনের সর্বোচ্চ সীমা বেধে দিলে ব্যাঙ্ক এবং বিমা সংস্থাগুলোর সরাসরি উপার্জনে বড় কোপ পড়বে। ফলে লভ্যাংশ কমার আশঙ্কায় লগ্নিকারীরা একযোগে ব্যাঙ্কিং ও ফাইনান্সিয়াল সেক্টরের শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন।

কার কত ক্ষতি হলো?

IRDAI-এর এই প্রস্তাবের জেরে এক দিনেই দেশের ১২টি প্রধান ফিন্যান্সিয়াল স্টকে বিপুল ধাক্কা লেগেছে। যৌথভাবে কেবল এই স্টকগুলো থেকেই বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটাল কমেছে প্রায় ১.১২ লাখ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা:

  • বাজাজ ফিন্যান্স: কোম্পানিটি একাই প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকার বাজার মূলধন হারিয়েছে।

  • পিবি ফিনটেক: উধাও প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা।

  • এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক: ক্ষতি প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা।

  • অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক: মার্কেট ক্যাপ কমেছে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা।

বিমা সেক্টরে পিকের আগুন

আইআরডিএআই-এর ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সয়েছে স্বয়ং বিমা কোম্পানিগুলো। ১.১২ লাখ কোটি টাকার সম্মিলিত ক্ষতির মধ্যে কেবল বিমা খাতের সংস্থাই হারিয়েছে ৩৮,১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে HDFC Life-এর ক্ষতি প্রায় ৭,৬০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া Max Financial, ICICI Prudential Life এবং Turtlemint-এর যৌথ ক্ষতির পরিমাণ ৬,৮০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, নীতিগত পরিবর্তনের আগাম আশঙ্কায় বাজারের এমন রেকর্ড ধস আগামী দিনে ছোট ও মাঝারি লগ্নিকারীদের জন্য কতটা বিপদ ডেকে আনে, এখন সেদিকেই চোখ সবার।