পার্লারের মোটা খরচ অতীত! রান্নাঘরের এক চামচ এই জিনিসেই দুর্গাপুজোয় মিলবে সেলিব্রিটিদের মতো রূপ

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো দোরগোড়ায়। কেনাকাটা প্রায় শেষ, এখন সবার নজর রূপচর্চায়। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে নিজেকে কীভাবে একটু আলাদা ও উজ্জ্বল দেখাবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু নামীদামী পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ না করেও যে ঘরে বসেই কাচের মতো পরিষ্কার ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সম্ভব, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আর এই অবিশ্বাস্য রূপচর্চার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আমাদের রান্নাঘরেরই অতি পরিচিত একটি উপকরণে— খাঁটি দেশি ঘি।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ঘি কেবল শরীরের জন্যই উপকারী নয়, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ত্বক চর্চাতেও একে ‘সুপারফুড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঘিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুষ্ক ত্বককে গভীর থেকে ময়েশ্চারাইজ করে এবং প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে।
পুজোর আগে চটজলদি মুখের দাগছোপ দূর করে উপচে পড়া উজ্জ্বলতা পেতে ঘরোয়া উপায়ে বানিয়ে নিতে পারেন কয়েকটি বিশেষ ফেসপ্যাক:
মুলতানি মাটি ও ঘি: এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য ঘি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে মেখে নিন। মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেললেই মুখের ভেতরের সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে ত্বক পাবে এক ফ্রেশ ও নিখুঁত লুক।
বেসন, ঘি ও হলুদ: এক চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও ঘি মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে মুখের মেচেতা বা জেদি কালচে দাগছোপ উধাও হবে দ্রুত।
জাফরান ও ঘি: অল্প একটু জাফরান ও এক চিমটি হলুদ ঘিয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মুখ ও গলায় হালকা হাতে মাসাজ করুন। এটি বলিরেখা দূর করে বয়সের ছাপ কমায় এবং ত্বকে আনে গোলাপি আভা।
দুধ, বেসন ও ঘি: বেসন, সামান্য দুধ ও ঘি মিশিয়ে তৈরি প্যাক সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে নরম, কোমল ও এক শেড উজ্জ্বল।
তবে যেকোনো নতুন ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে ত্বকে অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে রূপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পুজোর আগেই শুরু করে দিন এই সহজ ঘরোয়া যত্ন।