‘বেহালার মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ, চাইব বিচার!’-৩ বছর পর ঘরে ফিরেই কী বার্তা দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?

তিন বছর, তিন মাস ১৯ দিনের দীর্ঘ কারাবাস শেষে সোমবার জেলমুক্ত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০২২ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার নাকতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর এই প্রথম নিজ বাসভবনে ফিরলেন তিনি। আর বাড়িতে ফিরেই ফের কাজে নামার কথা জানিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার নাকতলার বাড়িতে তাঁকে দেখতে ভিড় জমান দলের কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘদিনের প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে তাঁদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কর্মীদের এই আবেগঘন ভালোবাসা দেখে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী নিজেও গভীরভাবে আপ্লুত হন। মন দিয়ে শোনেন প্রত্যেকের কথা।
‘বেহালার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ’:
জেলমুক্তির পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, তিনি দ্রুত তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে যাবেন এবং সেখানে তিনি ফের মানুষের জন্য কাজে নামবেন।
বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি বেহালার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যাঁরা আমাকে সৎ মানুষ মনে করেন, আমি তাঁদের কাছে যাব। বিচার চাইব।” এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত?
যদিও শিক্ষাদূর্নীতি কাণ্ড সামনে আসার পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে, বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেন ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে এই ইঙ্গিতই আরও জোরালো করলেন তিনি নিজে। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি পাশে ছিলেন। ২০০১ সাল থেকে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তিনি টানা জয়ী হয়ে আসছেন।
আইনজীবীর বক্তব্য:
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বর্তমানে জানিয়েছেন, “আপাতত কয়েকদিন বিশ্রামে থাকবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর তিনি অন্য সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর চিকিৎসা যেমন চলছে, চলবে। আইনি প্রক্রিয়াও একই গতি বজায় রাখবে।” আইনজীবী আরও দাবি করেন, এই জেলমুক্তি সত্যের জয় প্রমাণ করেছে।
দীর্ঘ কারাবাসের পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ‘কাজে নামার’ বার্তা এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বেহালা পশ্চিমে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।