জামিন পেয়েই বিধানসভায় ফেরার ইঙ্গিত পার্থর! শীতকালীন অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখতে চেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এবং শাসকদল থেকে বহিষ্কৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস ১৯ দিন কারাবাসের পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্ত হয়ে তাঁর নাকতলার বাড়িতে ফিরেছেন। আপাতত তাঁকে নির্দল বিধায়ক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিধানসভায় ফেরার ইচ্ছা: খাতায়-কলমে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় এই মুহূর্তে নির্দল বিধায়ক হিসেবে চিহ্নিত পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক থাকলেও বিধানসভায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শোনা যাচ্ছে, সুযোগ পেলে তিনি আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসেবে যোগ দিতে এবং বক্তব্য রাখতে চেয়েছেন।
আইনের প্রতি আস্থাশীল: মঙ্গলবার দুপুরে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে চেপে নীল ফুলছাপ সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মুক্তির খবর পেয়ে হাসপাতালের বাইরে ভিড় করা অনুগামীরা ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকেন।
সন্ধ্যায় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় লেখেন, “আমি আইনের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই সত্যেরই জয় হয়েছে। আগামী দিনে সত্যেরই জয় হবে।”
বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে বিচার চাইবেন: নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্নে তিনি তাঁর কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যাঁরা আমাকে সৎ মানুষ মনে করে পরপর পাঁচবার জিতিয়েছেন, আমি তাঁদের কাছেই বিচার চাইব।”
নাকতলায় আবেগময় মুহূর্ত: নাকতলার বাড়িতে পৌঁছনোর পর তাঁর ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে তাঁকে বরণ করে ঘরে তোলেন। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। ভাইঝি এসে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। বাড়ির সামনে উপস্থিত সমর্থকদের কণ্ঠেও ফের ‘পার্থদা জিন্দাবাদ!’ স্লোগান শোনা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর সোমবার আলিপুরের বিশেষ আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেয়।