অধ্যাত্মবাদের আলোকবর্তিকা শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি ঘিরে উৎসবের আমেজে মেতেছে বেলুড় মঠ। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সাধারণ মানুষের জন্য মঠ প্রাঙ্গণে এক বিশাল জন-উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই অগণিত ভক্ত ও অনুরাগীর উপস্থিতিতে গঙ্গার তীরবর্তী এই মঠ প্রাঙ্গণ এক পবিত্র মিলনতীর্থে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের এই জন্মোৎসব উপলক্ষে ওই দিন মঠে দিনভর চলবে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। ভোরবেলা মঙ্গলারতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। এরপর শ্রীরামকৃষ্ণের বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি, ভজন, সংকীর্তন এবং বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। মঠের সন্ন্যাসীরা পাঠ করবেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত। দুপুরে ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকছে।
২২ ফেব্রুয়ারির বিশেষ সূচি (সাধারণের জন্য):
-
ভোর ৪:৪৫ মিনিট: মঙ্গলারতি ও প্রার্থনা।
-
সকাল ৮:০০ – ১০:০০: বেদপাঠ, স্তোত্রপাঠ এবং ভক্তিমূলক সংগীত।
-
সকাল ১০:৩০: শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবন ও দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা।
-
দুপুর ১২:০০ – ২:৩০: ভক্তদের মধ্যে অন্নপ্রসাদ বিতরণ।
-
বিকেল ৪:০০ – ৬:০০: প্রাঙ্গণে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভজন।
-
সন্ধ্যা ৬:০০: আরতি ও বিশেষ সান্ধ্য উপাসনা।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জন-উৎসবের দিন কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় সামাল দিতে বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ এবং হাওড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গঙ্গার ঘাটে নজরদারির পাশাপাশি মঠের প্রতিটি প্রবেশপথে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা থাকছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভক্তদের জন্য যাতায়াতের বিশেষ সুবিধাও রাখা হচ্ছে।
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আধ্যাত্মিক উৎসবে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বেলুড়ে আসছেন। আপনিও যদি এই পুণ্য লগ্নে শামিল হতে চান, তবে ভিড় এড়াতে সকাল সকাল পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।