বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ! হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, “মসজিদে আপত্তি নেই, বাবর নামে আছে”

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় জেআইউপি (JUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠল বিতর্ক। বুধবার থেকে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হতেই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা, “মসজিদ নির্মাণে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের ওপর অত্যাচার চালানো বিদেশি আক্রমণকারী বাবরের নামে মসজিদ কেন?”

কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী? এদিন পূর্ব মেদিনীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “মুঘল-পাঠানরা ভারতে এসেছিল লুণ্ঠন করতে, মন্দির ধ্বংস করতে। বাবর ছিল একজন লুটেরা ও অত্যাচারী। তাঁর নামে বাংলায় বা ভারতে কোনো স্থাপনা হতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে বাংলা থেকে মুঘল শাসকদের সমস্ত চিহ্ন এবং তাঁদের নামাঙ্কিত সমস্ত জায়গার নাম মুছে ফেলা হবে।”

হুমায়ুন কবীরের পাল্টা যুক্তি: অন্যদিকে, ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্তমানে জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এই মসজিদ নির্মাণ সংখ্যালঘু সমাজের আবেগের সাথে যুক্ত। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ বিঘা জমির ওপর এই ‘বাবরি মসজিদ’ কমপ্লেক্স তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালও থাকবে। তিনি দাবি করেন, “গণতান্ত্রিক দেশে মন্দির হতে পারলে মসজিদ নির্মাণে বাধা কোথায়? আমরা ২০২৮-এর মধ্যে এই কাজ শেষ করব।”

তৃণমূলের অবস্থান: তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে এই ইস্যুতে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি এবং হুমায়ুন কবীর আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, যারা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় মেরুকরণ করতে চাইছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বেলডাঙার এই মসজিদ ইস্যু এবং শুভেন্দু অধিকারীর ‘অ্যান্টি-মুঘল’ অবস্থান বাংলার রাজনীতিকে এক নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বেলডাঙার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নির্মাণকাজ এবং তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ প্রশাসনের চিন্তাও বাড়িয়ে দিয়েছে।