“বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে!”-অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় তথ্য সামনে আনল কেন্দ্র

অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়া নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। কবে থেকে তাঁদের বেতন এবং পেনশন বাড়বে, তা জানতে সকলেই উন্মুখ। সংসদের চলতি অধিবেশনে এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিশনের কাজ এগোচ্ছে এবং রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কবে গঠিত হয়েছিল অষ্টম বেতন কমিশন?

সংসদে সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে অষ্টম বেতন কমিশন। কমিশনকে তাদের বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য মোট ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেব অনুযায়ী, কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।

কমিশনের কাজ এখন কোন পর্যায়ে?

অর্থ মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত প্রায় নয় মাস ধরে বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে একেবারে তৃণমূল স্তরে কাজ চালাচ্ছে কমিশন।

  • শহরভিত্তিক বৈঠক: সম্প্রতি দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেছে কমিশন। এর আগে কলকাতাতেও বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী দিনে জয়পুরেও কমিশনের পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

  • উপকৃত হবেন কত জন? সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৫.৭৭ লক্ষ কেন্দ্রীয় বেসামরিক কর্মচারী এর আওতাভুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে আনুমানিক ৩৩.৭৬ লক্ষ পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগী রয়েছেন (এই পরিসংখ্যানে অবশ্য প্রতিরক্ষা বিভাগের পেনশনভোগীরা অন্তর্ভুক্ত নন)।

কোন কোন বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন?

অষ্টম বেতন কমিশন মূলত সরকারি কর্মীদের মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত একাধিক পরিবর্তন নিয়ে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি, পেনশন এবং পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণেও এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে কমিশনের হাতে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য এখনও প্রায় ৯ মাস সময় বাকি থাকায়, ঠিক কবে থেকে সংশোধিত বেতন বা পেনশন হাতে পাবেন কর্মীরা, সেই বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি কেন্দ্র। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে সরকার।