পেনশন চালু রাখতে মানতেই হবে এই নিয়ম! জীবন প্রমাণ জমা দেওয়ার সহজ পদ্ধতি জেনে নিন

মাসিক পেনশনের উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক ও পেনশনভোগীদের জন্য লাইফ সার্টিফিকেট বা ‘জীবন প্রমাণ’ (Life Certificate) জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা EPS-95-এর আওতায় বর্তমানে ৮২ লক্ষেরও বেশি মানুষ পেনশন পেয়ে থাকেন। এই বিশাল সংখ্যক সুবিধাভোগীর পেনশন যাতে কোনও কারণে ব্যাহত না হয়, তার জন্য ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট (DLC) এর বৈধতা ও নবীকরণের নিয়মগুলি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জীবন প্রমাণ জমা না দিলে কী হতে পারে?
সাধারণত প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না। একজন EPF পেনশনভোগীর ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ঠিক ১২ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নতুন সার্টিফিকেট জমা না দিলে, পরবর্তী পেমেন্ট সাইকেল থেকেই পেনশন সাময়িক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে চিন্তার কারণ নেই, পরবর্তী সময়ে নতুন লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে তা প্রসেস হয়ে গেলে পুনরায় পেনশন চালু হয়ে যায় এবং নিয়মানুযায়ী আটকে থাকা বকেয়া অর্থও পেয়ে যান উপভোক্তারা।
ঘরে বসে ফেস অথেনটিকেশনের মাধ্যমে জীবন প্রমাণ জমা দেওয়ার পদ্ধতি:
ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের লাইনে না দাঁড়িয়ে, স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ঘরে বসে খুব সহজে ফেস অথেনটিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বৈধ পরিচয়পত্র, আধারের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং পেনশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
ধাপ ১ (অ্যাপ ইনস্টল): প্রথমে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ‘জীবন প্রমাণ’ (Jeevan Pramaan) অ্যাপ এবং ‘AadhaarFaceRD’ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন।
ধাপ ২ (অ্যাপ ওপেন ও অনুমতি): অ্যাপটি খুলে ক্যামেরা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি দিন।
ধাপ ৩ (অপারেটর অথেনটিকেশন): নিজের পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে ওটিপি (OTP) যাচাই সম্পন্ন করুন। প্রবীণ বা শয্যাশায়ী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পরিবারের কোনও সদস্য অপারেটর হিসেবে সাহায্য করতে পারেন।
ধাপ ৪ (পেনশনের তথ্য ও ফেস স্ক্যান): ফোনের সামনের ক্যামেরা ব্যবহার করে পেনশনভোগীর মুখের ছবি (Face Scan) তুলতে হবে। এরপর উপলব্ধ তালিকা থেকে সঠিক Pension Payment Order বা PPO নম্বরটি বেছে নিতে হবে।
ধাপ ৫ ও ৬ (সার্টিফিকেট তৈরি): সমস্ত তথ্য সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আধার বেসড ফেস অথেনটিকেশন সম্পূর্ণ হলেই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে যাবে এবং একটি ইউনিক ‘প্রমাণ ID’ পাওয়া যাবে। নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে লিঙ্ক চলে আসবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি:
পেনশনভোগীদের PPO নম্বর, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বরের তথ্য যেন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তথ্যে অমিল থাকলে সার্টিফিকেট বাতিল হতে পারে।
বারবার নতুন করে সার্টিফিকেট জমা না দিয়ে প্রাপ্ত ‘প্রমাণ ID’ নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।
স্মার্টফোন ব্যবহারে অসুবিধা হলে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নেওয়া কিংবা স্থানীয় ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা ডোরস্টেপ ব্যাঙ্কিং (Doorstep Banking) পরিষেবার মাধ্যমেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যানের সাহায্যে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সময়মতো এই কাজ সেরে রাখলে মাসিক পেনশনে আর কোনও বাধা আসবে না।