বেজিংকে বন্দর দিয়েও দিল্লির দিকে হাত বাড়াচ্ছেন মুইজ্জু! আসল রহস্য কী?

ভারত এবং চিন—দুই মহাশক্তিকে একই সঙ্গে তুষ্ট করতে গিয়ে কৌশলী কূটনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে মালদ্বীপ। একসময়ে চরম ভারত-বিরোধী অবস্থান নেওয়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর সাম্প্রতিক আচরণে এই কূটনৈতিক ডিগবাজি এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি ভারতের আর্থিক সহায়তায় তৈরি থিলামালে ব্রিজ প্রকল্পকে দিল্লি ও মালের মধ্যকার ‘দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন’ বলে অভিহিত করেছেন মুইজ্জু, যা তাঁর আগের নীতি থেকে সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন।

মালদ্বীপের এই বৈদেশিক নীতিকে ওয়াকিবহাল মহল ‘দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা’ বলে অভিহিত করছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সে বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় এসেই মুইজ্জু ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান তুলে বেজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর নীতি নেন। অথচ মালদ্বীপের অর্থনীতি মূলত ভারতীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় ২০২৪ সালের শুরুতে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৌশলগতভাবে লাক্ষাদ্বীপকে ভারতীয় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার ডাক দেন। এর জেরে ভারতীয় পর্যটকরা মালদ্বীপ থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করলে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে দ্বীপরাষ্ট্রটি।

পরিস্থিতি সামাল দিতেই গত ফেব্রুয়ারিতে মালদ্বীপের পোর্ট লিমিটেড ঘোষণা করে যে, থিলাফুশি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিন হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে। একদিকে চিনের হাতে বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো তুলে দেওয়া, আর অন্যদিকে ভারতের অর্থায়নে চলা প্রকল্পে দিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া—এই দুইয়ের মেলবন্ধন থেকেই পরিষ্কার যে, নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই নিজের মসনদ বাঁচাতে চাইছে মালের প্রশাসন।