মমতার কালীঘাট নাকি ঋতব্রত শিবির—কাকে স্বীকৃতি দেবে কমিশন? ভোট ঘোষণা হতেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

বাংলা রাজনীতির আঙিনায় এক নজিরবিহীন এবং অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকটের সূচনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির—উভয় পক্ষই নিজেদের মূল রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করায় আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে চরম প্রতীক সঙ্কটে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে এবং আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত যেকোনো নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তে তৃণমূল ব্যস্ত তাদের আসল প্রতীক কোনটি হবে তা নিয়ে আইনি লড়াই চালাতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হতে হয়নি এবং এর স্থায়ী সমাধান কোন পথে আসবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না।

কালীঘাটপন্থী মূল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ঐতিহ্যগতভাবেই ঘাসফুল প্রতীক তাদের হাতেই থাকা উচিত। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়ে জোরদার দাবি জানিয়েছে যে, মূল দলটির সিংহভাগ নির্বাচিত বিধায়ক ও কর্মী-সমর্থক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। ফলে আইনগত এবং সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে அவர்கই ‘আসল’ তৃণমূল। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারিবারিক দল হিসেবে পরিচিতির বৃত্ত ভাঙার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এই নতুন শিবির। ইতিমধ্যেই দিল্লির নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সমস্ত আইনি নথিপত্র, সমর্থনসূচক স্বাক্ষর ও গুরুত্বপূর্ণ রেজোলিউশন জমা দিয়েছেন ঋতপন্থীরা। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেবে? কমিশন কি দীর্ঘদিনের কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কাছেই ঘাসফুল প্রতীক বহাল রাখবে, নাকি দলীয় ভাঙনের কথা মাথায় রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেই মূল প্রতীকের আইনি অধিকার দেবে? এমনকি উভয় পক্ষকেই প্রতীক না দিয়ে প্রতীকটি সম্পূর্ণ স্থগিত বা বাতিল করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে কমিশন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, “কোন তৃণমূল প্রতীক পাবে আর কে পাবে না, সেটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই বিচার বিভাগ ও কমিশনই সঠিক সময়ে এর চূড়ান্ত ফয়সালা করবে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনো পক্ষের তরফেই এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায়, প্রতীক কার হাতে থাকবে এবং উপনির্বাচনের লড়াইয়ে কোন পক্ষ জয়ী হবে, তা সময়ই বলবে।