ভেনিসে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন! জলের পাশাপাশি ছুড়ে মারা হল ডিম, কাড়ল মোবাইলও

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইটালিতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের নামজাদা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’-খ্যাত এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর ওপর ইটালির মেস্ত্রে শহরে একদল দুর্বৃত্ত চড়াও হয়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সোমবার রাতে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে বাইরে বের হলে অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে জল ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। এখানেই শেষ নয়, অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাঁর হাতের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নিয়ে দূরে ফেলে দেওয়া হয়। হামলার ওই ভীতিকর মুহূর্তে অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ছোট সন্তানও উপস্থিত ছিল। আকস্মিক এই বর্বরোচিত ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইটালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

বাঁধনের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সরব ও প্রকাশ্য সমর্থনের কারণেই তাঁকে সুদূর বিদেশের মাটিতে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। অভিনেত্রীর অভিযোগের আঙুল যে সমস্ত হামলাকারীদের দিকে, তারা নিজেদের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ বলে পরিচয় দিয়েছিল। হেনস্থা ও মারমুখী আচরণের এক পর্যায়ে বাঁধনকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার ঘৃণ্য চেষ্টা চালায় আক্রমণকারীরা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর এই চরম বিপর্যস্ত অবস্থার দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার এবং তা ‘লাইভ’ করার অপচেষ্টাও চালানো হয়।

পুরো এই জঘন্য ঘটনার নেপথ্যে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর জোরালো ভূমিকা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে জোরালো দাবি করেছেন অভিনেত্রী নিজে। যদিও এই হামলার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিচয় ও তাদের মূল উদ্দেশ্য কতখানি গভীর, সে বিষয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, স্বনামধন্য পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের আলোচিত ছবি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। মূলত ওই ছবির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উপলক্ষেই ইউরোপের এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে ইটালিতে পা রেখেছিলেন তিনি।