বৃষ্টির তাণ্ডবে গোটা পরিবার হারিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাবে ১১ মাসের ছোট্ট নীতিকা

হিমাচলের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এক অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে, যার সবচেয়ে করুণ প্রতীক ১১ মাসের ছোট্ট নীতিকা। যে রাতে পাহাড়ি ধস আর মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তার বাবা-মা এবং দিদা ভেসে গিয়েছিলেন, সেই ভয়াল রাতের নীরব সাক্ষী সে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এই শিশুটির গায়ে বৃষ্টির একটি ফোঁটা পর্যন্ত পড়েনি, কিন্তু তার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে সবটুকু।

জীবন্ত প্রতীক নীতিকা
৩০ জুন ও ১ জুলাইয়ের মধ্যরাতে মান্ডি জেলার তাওয়ারা গ্রামে হঠাৎ নেমে আসে বিপর্যয়। প্রচণ্ড বৃষ্টির জেরে পাহাড় ধসে যায় এবং আকস্মিক বন্যায় ভেসে যান নীতিকার বাবা রমেশ কুমার (৩১), মা রাধা দেবী (২৪) এবং দিদা পুনম দেবী (৫৯)। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে রইল শুধু ছোট্ট নীতিকা। বর্তমানে তার মাসি কিরণা দেবীই তাকে লালন-পালন করছেন।

সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সামৃতিকা নেগি-এর কোলে নীতিকার একটি ছবি সারা দেশে মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। সেই ছবি এখন হিমাচলের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন
রাজ্য সরকার নীতিকাকে ‘Child of The State’ ঘোষণা করেছে। এর মানে হলো, তার লালন-পালন, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত শিক্ষার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ হিমাচল প্রদেশে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি কাংড়ার গজ্ঞল বিমানবন্দরে ২১ জন দুর্গত মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন, যার মধ্যে রয়েছে ছোট্ট নীতিকাও। এখানেই তিনি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে তিনি মান্ডি, কুল্লু এবং চাম্বা জেলার মতো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন।

এই দুর্যোগে হিমাচলে মোট প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় ও রাজ্য সড়কের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।