আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনায় ফুটছে তিলোত্তমা। কিন্তু ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে কেকেআর বনাম পঞ্জাব কিংসের হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে জল ঢেলে দিল প্রকৃতি। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রবল বৃষ্টি ও দুর্যোগের কারণে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। আর এই ঘটনাতেই সবচেয়ে বেশি মুষড়ে পড়েছেন ইডেনের অভিজ্ঞ পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের লড়াই ও আবেগের জায়গা ইডেন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি।
রাতের ঘুম কেড়েছে ইডেন: পিচ কিউরেটরের কাজটা কেবল ঘাস কাটা বা রোলার চালানো নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো মানুষের প্রত্যাশা। সুজন মুখোপাধ্যায় আক্ষেপের সুরে জানান, “যখনই ইডেনে বড় কোনও ম্যাচ থাকে, তার আগের রাতে আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। মনের ভেতর সারাক্ষণ ভয় কাজ করে— আকাশ পরিষ্কার থাকবে তো? পিচ ঠিকঠাক আচরণ করবে তো?” তাঁর কাছে ইডেনের প্রতিটি ঘাস, প্রতিটি ধূলিকণা নিজের সন্তানের মতো। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়া তাঁর কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির সমান।
পঞ্জাব ম্যাচের সেই দুর্ভাগ্য: পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে কেকেআর যখন ৩.৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, তখনই নামে প্রবল বৃষ্টি। বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়ায় খেলা শুরু করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুজনবাবুর কথায়, “পুরো মাঠ ঢেকে ফেলার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রকৃতির ওপর তো কারও হাত নেই। দর্শকদের হতাশা দেখলে নিজেরও খুব খারাপ লাগে।” এই ম্যাচের ফলে কেকেআর এবারের মরসুমের প্রথম পয়েন্ট পেলেও জয় অধরাই থেকে গেল।
পিচ বিতর্ক ও সুজনের অবস্থান: মাঝে মধ্যেই ইডেনের উইকেট নিয়ে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট বা বিশেষজ্ঞ মহলের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে সেই বিতর্ককে পাশে সরিয়ে সুজন মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তিনি সবসময় একটি ‘স্পোর্টিং উইকেট’ তৈরির চেষ্টা করেন যেখানে ব্যাটার ও বোলার উভয়েই সাহায্য পায়। তাঁর এই দায়বদ্ধতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন সিএবি (CAB) কর্তারাও।
কেকেআরের পরের ম্যাচ লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে। ফের ইডেনের পিচকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে এখন দিনরাত এক করছেন সুজন। বৃষ্টির ভ্রুকুটি কাটিয়ে আবার কবে ইডেনের গ্যালারি কেকেআর-এর গর্জনে কেঁপে উঠবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন খোদ কিউরেটর।





