দুবাই: তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি শখের তালিকা এবং অভাবনীয় সাফল্যের গল্প – সব মিলিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন দুবাইয়ের ভারতীয় ধনকুবের সতীশ সানপাল এবং তাঁর স্ত্রী তাবিন্দা সানপাল। বিশ্বের উচ্চতম ইমারত বুরজ খালিফার বাসিন্দা এই দম্পতি, কিন্তু জানেন কি এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ₹৮০,০০০ টাকা নিয়ে?
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জব্বলপুরের এই যুবক ১৫ বছর আগে দুবাই যান। শুরুটা ছিল একটি মুদি দোকান দিয়ে। বিলাসবহুল জীবনযাপনের পাশাপাশি তাঁর উত্থানের গল্পও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
‘পড়াশোনা ভালো লাগতো না, স্বপ্ন ছিল শুধু টাকা রোজগারের’
‘কার্লি টেলস’-এর সঙ্গে একটি হাউস ট্যুর ভিডিওতে নিজেদের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সতীশ সানপাল জানান, “আমি জব্বলপুরের ছেলে। দুবাই আসার ১৫ বছর হয়ে গেল। মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল। ওখানে একটা মুদি দোকান দিয়ে কাজ শুরু করি। আমি ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনায় কোনো আগ্রহ ছিল না। প্রথম থেকেই স্বপ্ন ছিল অনেক বড়, আমাকে টাকা রোজগার করতেই হবে।”
রাজকীয় অন্দরমহল: দামি শিল্পকর্ম আর সোনার ঝাড়বাতি
সম্প্রতি বুরজ খালিফার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে উঁকি দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন এই বিলিয়নেয়ার দম্পতি। প্রবেশপথেই একটি বিশাল আয়না এবং দু’পাশে রাখা মার্জিত ফুলদানি এক জমকালো পরিবেশ তৈরি করেছে।
লিভিং রুম জুড়ে রয়েছে নানা ধরনের মূল্যবান শিল্পকর্ম যা তাঁদের রুচি ও আভিজাত্যের পরিচয় দেয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি কাওয়াই পিয়ানো, দুই পাশে ময়ূর এবং ফুলদানি-সহ একটি বিশাল আয়না, একটি সোনার ঝাড়বাতি এবং আরও অনেক সজ্জা সামগ্রী। ডাইনিং এলাকাটি সম্পূর্ণ সাদা রঙে সাজানো, যা এক রাজকীয় আকর্ষণ এনেছে। বসার ঘর থেকেই দেখা মেলে দুবাইয়ের আকাশচুম্বী দৃশ্যের, যা উপভোগ করা যায় বিশাল কাঁচের জানালার সামনে রাখা নরম সোফায় বসে।
এই অ্যাপার্টমেন্টে যেমন রয়েছে ক্লাসিক ও সমসাময়িক রুচির মিশেল, তেমনই রয়েছে আরাম ও উষ্ণতার ব্যবস্থা। তবে এত সৌন্দর্যের মধ্যেও ছোট্ট একটি সমস্যাও আছে। তাবিন্দা স্বীকার করেছেন, “এখানে থাকাটা দারুণ, শুধু একটা জিনিসই মিস করি, সেটা হলো ফ্রেশ এয়ার।” কারণ, বুরজ খালিফার জানালা খোলা যায় না। যদিও সতীশ সানপাল যোগ করেছেন, “আমরা এখন এই ভবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”
বুরজ খালিফায় থাকার সবচেয়ে ভালো দিক কী? উত্তর: দুবাই মল (Dubai Mall)। তাবিন্দা হেসে জানান, “আমরা দিনে অন্তত তিনবার সেখানে যাই। কখনও কিছু কেনার জন্য বা শুধু কফি খেতে।”
বিলাসবহুল গাড়ির কালেকশন ও রিয়েল এস্টেটের দাম
বিলাসিতার প্রতি সতীশের ভালোবাসা তাঁর গাড়ির সংগ্রহেও স্পষ্ট। জানা গেছে, তাঁর বহরে রয়েছে একটি গোলাপি রঙের রোলস-রয়েস, একটি বুগাটি এবং একটি বেন্টলি-এর মতো চোখ ধাঁধানো গাড়ি।
বুরজ খালিফায় রিয়েল এস্টেটের দাম স্বাভাবিকভাবেই আকাশছোঁয়া। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ছোট ১ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের দাম প্রায় ৬.২ কোটি থেকে ৮.৪ কোটি টাকা (AED ২.৬-৩.৫ মিলিয়ন)। তুলনামূলকভাবে বড় ৩ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের দাম শুরু হয় ১৪.৩ কোটি টাকা থেকে, যা ২৮.৭ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। তবে সব রেকর্ড ভেঙে ১০৭-১০৮ তলার একটি ডুপ্লেক্স পেন্টহাউস প্রায় ১৮০-১৮৭ মিলিয়ন দিরহামে (প্রায় $৪৯-৫১ মিলিয়ন বা ৪০০ কোটি টাকারও বেশি) অফার করা হয়েছে!
বুরজ খালিফা ছেড়ে নতুন ঠিকানায় দম্পতি
এত বিলাসবহুল জীবনযাপন সত্ত্বেও সতীশ এবং তাবিন্দা এখন দুবাই হিলসে (Dubai Hills) তাঁদের নতুন বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সাক্ষাৎকারে এই দম্পতি জানান, তাঁদের নতুন সম্পত্তিটি প্রায় ৫০,০০০ বর্গফুট জায়গার উপর তৈরি এবং তাতে রয়েছে “৬০টি দরজা এবং ডাবল জানালা”।
ডাউনটাউন দুবাই এবং দুবাই মেরিনার মাঝামাঝি অবস্থিত দুবাই হিলস এলাকাটি তার সবুজের সমারোহ, বিলাসবহুল ভিলা, গল্ফ কোর্স এবং শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এই নতুন ঠিকানায় তাঁরা এমন স্থান, গোপনীয়তা ও একচেটিয়া সুবিধা পাবেন, যা বুরজ খালিফাতেও সম্ভব ছিল না।
আপনি কি মনে করেন দুবাই হিলসের এই নতুন ঠিকানা তাঁদের জীবনের আরও বড় সাফল্যের প্রতীক হবে? আপনার মতামত জানান!