নন্দীগ্রামের ক্ষত ভুলে ফের মহাযুদ্ধের ময়দানে মমতা? শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে কামব্যাক করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—উপনির্বাচনের মাধ্যমেই কি ফের সংসদীয় রাজনীতিতে কামব্যাক করতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সম্প্রতি মদন মিত্রের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে জল্পনার পারদ চড়েছে তুঙ্গে। যদিও এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কালীঘাটের তৃণমূল ভবনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে দুটি আসনে উপনির্বাচন হতে চলেছে—একটি নন্দীগ্রাম এবং অন্যটি রেজিনগর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের নজর এখন এই দুই আসনের সমীকরণের দিকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল মমতাকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই নন্দীগ্রামের মাটি এখনও তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানে অধিকারী পরিবারের নেতৃত্বে বিজেপি যথেষ্ট শক্তিশালী। তাছাড়া, শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম আসনে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকেও শক্তিশালী প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে, যা লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলবে।

অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আসন হিসেবে চর্চায় রয়েছে রেজিনগর। হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া এই আসনে মমতার প্রার্থী হওয়ার জল্পনা যেমন রয়েছে, তেমনই বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভাব্য কৌশলও ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। যদি এই আসনে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেয়, তবে লড়াই ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একদিকে নন্দীগ্রামের মর্যাদার লড়াই এবং অন্যদিকে রেজিনগরের রাজনৈতিক অঙ্ক—সবমিলিয়ে উপনির্বাচনের এই ময়দান যে বাংলা রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে নেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ময়দানে নামেন কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।