মার্কিন নাগরিকদের হাতে সোজা ৫ হাজার ডলার ক্যাশ তুলে দেওয়ার বিরাট ঘোষণা! ভোটে জিততে কি মরিয়া ট্রাম্প?

আমেরিকান রাজনীতিতে প্রথা ভাঙার মাস্টারডন ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক অভাবনীয় চাল চেটেছেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে নগদ পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মিডটার্ম রিপাবলিকান কনভেনশনের উদ্বোধনী রাতে নিজের দীর্ঘ ভাষণের একেবারে শেষ পর্যায়ে এই বোমা ফাটান ট্রাম্প। এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের এই বিশাল অঙ্কের প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বা এর তহবিল কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা বিশদ বিবরণ তিনি দেননি। স্বভাবতই ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় যেমন সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে, তেমনই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান কনভেনশন অ্যারেনায় উপস্থিত উলসিত জনতা ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তুমুল করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানালেও, খোদ ট্রাম্পের দলেই এর প্রবল বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নভেম্বরের কঠিন নির্বাচনে যেসব রিপাবলিকান প্রার্থীরা স্বাধীন ও দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করার লড়াইয়ে নেমেছেন, তাঁরা এই ঘোষণায় রীতিমতো বিব্রত। কেন্টাকির প্রভাবশালী রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ভোট কেনার এই প্রচেষ্টায় তিনি গভীরভাবে অপমানিত বোধ করছেন এবং এর জেরে দেশে ভয়ংকর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবির একে সম্পূর্ণ ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ ও ‘ভোটের রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আইনি ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ছাড় করানো কার্যত অসম্ভব। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে প্রয়োজনে কংগ্রেসের সবুজ সংকেতের তোয়াক্কা না করেই তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি কার্যকর করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ট্রাম্পের ওপর বর্তমানে প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান অপ্রিয় যুদ্ধ, পেট্রল পাম্পে জ্বালানির চড়া দাম এবং আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সাধারণ মার্কিনিরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ফলে নভেম্বরের ব্যালটে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প এই মাসুল আদায়ের মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এর আগেও বাণিজ্য শুল্ক বা ইলন মাস্কের ডজ ব্যয়ের হিসাব থেকে সাধারণ মানুষকে চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নগদ ৫ হাজার ডলারের লোভনীয় প্রস্তাব মার্কিন ভোটারদের মন জয় করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারে, নাকি এটি তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।