বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের (MSK) শিক্ষকদের অবস্থা এখন তথৈবচ। গত চার মাস ধরে কোনো ভাতা বা বেতন না পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে আন্দোলনে সরব হয়েছেন তাঁরা। অভিযোগের তির সরাসরি পুরসভা কর্তৃপক্ষের দিকে। শিক্ষকদের দাবি, যখন থেকে এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলি পুরসভার অধীনে এসেছে, তখন থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করেছে। নিয়মিত পারিশ্রমিক তো দূরঅস্ত, স্কুলের নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল ভাতার সমস্যাই নয়, স্কুলে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে পঠনপাঠন প্রায় লাটে ওঠার জোগাড়। অনেক প্রবীণ শিক্ষক অবসর নিলেও নতুন করে কোনো নিয়োগ হয়নি। ফলে হাতেগোনা কয়েকজনকে দিয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে সামলানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের ওপর।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, পুরসভার অধীনে আসার পর থেকে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শৌচাগার থেকে পানীয় জল—সবকিছুরই হাল অত্যন্ত শোচনীয়। চার মাস ধরে পকেটে টাকা না থাকায় অনেক শিক্ষকই এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বুনিয়াদপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক ও কর্মীরা। যদিও পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে কবে জট কাটবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।