বুধবার দ্বিতীয় দফার অগ্নিপরীক্ষা। প্রথম দফার বিক্ষিপ্ত অশান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। গোটা পশ্চিমবঙ্গকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)।
বুথ পিছু নিরাপত্তার নয়া সমীকরণ
কমিশনের নয়া ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, এবার প্রতি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
প্রতি বুথে: কমপক্ষে হাফ সেকশন বাহিনী।
বড় বুথ কমপ্লেক্স: ১১টি বুথে ৪ সেকশন এবং ১৫টি বুথের ক্ষেত্রে ৫ সেকশন বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
রাজ্য পুলিশ: কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি সুরক্ষায় থাকবেন ৩৮,২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ কর্মী।
একনজরে কোন জেলায় কত বাহিনী?
রাজ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বুথ সংখ্যা অনুযায়ী বাহিনীর বরাদ্দ করা হয়েছে। নিচের তালিকায় দেখে নিন আপনার এলাকায় বাহিনীর জোর কত:
| পুলিশ জেলা/কমিশনারেট | কেন্দ্রীয় বাহিনী (কোম্পানি) | রাজ্য পুলিশ |
| কলকাতা | ২৭৩ (সর্বাধিক) | ৭২৪১ জন |
| বারাসত | ১১২ | ২০৫৬ জন |
| বসিরহাট | ১২৩ | ২৩৬৯ জন |
| ব্যারাকপুর | ১৬০ | ৩২৪২ জন |
| বারুইপুর | ১৬১ | – |
| ডায়মন্ড হারবার | ১৩৪ | – |
| পূর্ব বর্ধমান | ২৬০ | – |
| হুগলি গ্রামীণ | ২৩৪ | – |
| বনগাঁ | ৬২ | ১১৫২ জন |
| বিধাননগর | ৫০ | ১৩২৮ জন |
| সুন্দরবন | ১১৩ | ২১১৪ জন |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শহর কলকাতায় নিরাপত্তার ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বুথের পাহারার পাশাপাশি রাস্তায় টহল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
প্রশাসনের বার্তা
ইতিমধ্যেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করেছে বাহিনী। সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করতে পুলিশ ও জওয়ানদের যৌথ পেট্রোলিং চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই কড়া নিরাপত্তাকে স্বাগত জানালেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নজরদারি বজায় রাখাই এখন কমিশনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।





