বুথে বুথে পদ্ম ফুটতেই বাম নেত্রীকে স্মরণ! রেজিনগরের ট্রেন্ড দেখে কী বললেন বিজেপি প্রার্থী?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর অনুষ্ঠিত প্রথম উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—উভয় কেন্দ্রেই ভোটগণনার শুরু থেকেই গেরুয়া শিবিরের জয়জয়কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাউন্ড যত এগোচ্ছে, ততই মার্জিন বাড়িয়ে ব্যবধান চড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও রেজিনগরে পদ্ম শিবিরের এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রাজনৈতিক মহলে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই অভাবনীয় ট্রেন্ড দেখে উচ্ছ্বসিত রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। বিজয়ের আনন্দে আপ্লুত হয়ে তিনি এক প্রাক্তন বাম নেত্রীর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক লড়ায়ের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁকে নিজের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেন। এদিন ভোটের ট্রেন্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, “নবান্নের মাথার উপর দিয়ে গঙ্গার জল বইবে, মহাকরণে আকাশ ভেঙে পড়বে, কিন্তু নন্দরানি ডলকে এক্সিট করতে পারব না, এটা হতে পারে না।” উল্লেখ্য, রেকর্ড ভোটে জয়ের জন্য বাংলার রাজনীতিতে এক অনন্য নাম নন্দরানি ডল। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার যুক্তফ্রন্টের আমল থেকেই তিনি বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬৭ সালে মেদিনীপুর জেলা থেকে যুক্তফ্রন্টের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে মাত্র পঁচিশ বছরের কম বয়সে ঘাটাল আসন জয় করেছিলেন তিনি। এরপর পরপর তিনবার ঘাটাল এবং পরবর্তীতে সিপিআইএম আমলে কেশপুর থেকে টানা তিনবার জয়ী হয়ে বিধানসভায় পা রেখেছিলেন এই নেত্রী।২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেশপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন বাম নেত্রী নন্দরানি ডল। সেই সময় তাঁকে রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসারমন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁর সেই বিপুল প্রাপ্ত ভোট নিয়ে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবুও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি তিনি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার মহিলা সমিতির প্রধান হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বর্তমান উপনির্বাচনের আবহে সেই প্রবীণ বাম নেত্রীর রেকর্ড ও আদর্শকেই নিজের সাফল্যের অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করলেন রেজিনগরের পদ্ম প্রার্থী।