তিহার জেল থেকে বার্তা দিয়ে ভাই জানালেন, নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ার স্বপ্ন ভেস্তে গেল JNU-এর প্রাক্তন ছাত্র নেতার।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন অ্যাক্টিভিস্ট শারজিল ইমাম। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভাই মুজাম্মিল ইমাম এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে থাকা শারজিল ইমামের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কারণ হলো – দিল্লি হাইকোর্ট গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকেও তিনি এখনও পর্যন্ত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি পাননি।
শারজিল ইমামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বিষয়টি অক্টোবরের শেষ অবধি স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচনের আগেই আমি জামিনে মুক্তি পাব।”
শারজিল ইমাম বিহারের কিষানগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি তিহার জেলে বন্দী।
শুক্রবার এক বার্তায় তিনি বলেন, রাজ্য সরকার তাঁর পথে “বাধা সৃষ্টি করেছে” যার ফলে তিনি নিজে নির্বাচনী প্রচার করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। এই কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
মুজাম্মিল ইমাম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর ভাইয়ের বার্তা পৌঁছে দিয়ে আরও লেখেন, “আমরা এই পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করেছিলাম এবং এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমার মতো একজন রাজনৈতিক বন্দীর জন্য বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করায় চরম বিধিনিষেধের কারণে মাত্র এক মাস সময় যথেষ্ট ছিল না।”
শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে মামলা: ৫৩ মৃত্যুর নেপথ্যে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’?
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে শারজিল ইমাম গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন।
সিএএ (CAA) এবং প্রস্তাবিত এনআরসি (NRC)-এর বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের সময় দিল্লি, আলিগড়, আসানসোল এবং চাকবন্দে দেওয়া বক্তৃতার জেরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
দিল্লি পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, শারজিল ইমামের বক্তৃতা মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের উত্তেজিত করেছিল, যা পরবর্তীতে দাঙ্গার জন্ম দেয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং শত শত মানুষ আহত হন।
পুলিশের দাবি, এই সহিংসতা নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বদনাম করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল, যার মূল ছক কষেছিলেন বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা।
বিহার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে—৬ নভেম্বর ও ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। শারজিল ইমামের জামিনের বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।