বিহারে বড়সড় নাশকতার ছক! পাকিস্তানের হ্যান্ডলারের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে ধৃত যুবক

জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করল বিহারের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুজাফফরপুরের রতনপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ মুস্তাফা নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে এটিএস। অভিযোগ, এই যুবক পাকিস্তানভিত্তিক কুখ্যাত অস্ত্র চোরাচালানকারী শাহজাদ ভাট্টির গ্যাংয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানের তথ্য পাচার করছিল।

এটিএসের স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মুস্তাফা নিয়মিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জনবহুল স্থানের জিওট্যাগ করা ছবি এবং ভিডিও পাকিস্তানের নেটওয়ার্কে পাঠাচ্ছিল। এই তথ্যগুলো সরাসরি পাকিস্তানের আন্ডারওয়ার্ল্ড ফিগার শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী রানা হুনাইনের কাছে পৌঁছাত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, শাহজাদ ভাট্টির সাথে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ভারতবিরোধী নাশকতামূলক কার্যকলাপের জন্য সে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে।

গ্রেফতারের পর এটিএস কর্মকর্তারা মুস্তাফার কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস—মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করেছেন। প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষার পর এটিএস নিশ্চিত যে, মুস্তাফা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের বিরুদ্ধে বড় কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। ধৃতের বাবা মোহাম্মদ সাগিরকেও এই ঘটনার সাথে যোগসূত্রের সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। বিহার পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ গ্রেফতারি নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো দীর্ঘমেয়াদী নাশকতার ছকের একটি বড় অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

মুজাফফরপুরের রতনপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক। স্থানীয়দের মতে, মুস্তাফাকে তারা একজন সাধারণ যুবক হিসেবেই জানত, এমন দেশবিরোধী কাজে সে জড়িত থাকতে পারে তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপগুলো এখন সন্ত্রাসবাদীদের কাছে গোয়েন্দা তৎপরতার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সীমান্তের ওপার থেকে কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে ভারতের অন্দরে নজরদারি চালানো হচ্ছে, এই ঘটনা তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ষড়ষন্ত্রে অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছিল এবং আরও কতজন স্থানীয় বাসিন্দা এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত আছে। ধৃত মুস্তাফাকে জেরা করে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো নাশকতার চক্রান্ত ফাঁস করার আশা রাখছে এটিএস। গোটা ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy