বিহারের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ রাজ্যসভা মনোনয়নের শেষ দিনে জল্পনা তুঙ্গে যে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নিজেই দিল্লির পথে পা বাড়াতে পারেন। যদি নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যান, তবে বিহারে দীর্ঘ কয়েক দশকের এনডিএ সমীকরণ আমূল বদলে যাবে।
ক্ষমতা হস্তান্তরের ফর্মুলা:
রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, নীতীশ কুমার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদটি এবার বিজেপির হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সম্রাট চৌধুরী, নিত্যানন্দ রাই বা দিলীপ জয়সওয়ালের মতো নামগুলো নিয়ে ইতিমধ্য়েই চর্চা শুরু হয়েছে। যদি বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পায়, তবে জেডিইউ (JDU) কোটা থেকে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিহারে কোনো উচ্চবর্ণের মুখ্যমন্ত্রী ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নিশান্ত কুমারের এন্ট্রি:
নীতীশ কুমার বরাবরই পরিবারতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন, কিন্তু দলের অস্তিত্ব রক্ষায় এবার তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারকে রাজনীতিতে আনার চাপ বাড়ছে। জেডিইউ কর্মীদের দাবি, নীতীশের পর দলকে একজোট রাখতে নিশান্তই একমাত্র ভরসা। হোলির আগেই নিশান্তের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্তিত্বের লড়াই:
তেজস্বী যাদবের মতো তরুণ নেতার মোকাবিলা করতে এবং বিজেপির দাপট থেকে দলকে বাঁচাতে নিশান্তকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন জেডিইউ নেতৃত্ব। নীতীশ কুমারের এই মাস্টারস্ট্রোক বিহারের রাজনীতিতে জেডিইউ-কে কতটা প্রাসঙ্গিক রাখে, সেটাই এখন দেখার।