নির্বাচনের মাঝপথেই আম আদমি পার্টিতে (AAP) বড়সড় বিস্ফোরণ! অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গীরা এবার শিবির বদলের পথে। প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং থেকে শুরু করে দলের তরুণ তুর্কি রাঘব চাড্ডা—একের পর এক হেভিওয়েট সাংসদ ঝাড়ু ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর। এই মেগা ভাঙনের জেরে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে আপ।
বিজেপির পথে কারা? এদিন এক সাংবাদিক বৈঠক করে আম আদমি পার্টির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা রাঘব চাড্ডা দাবি করেছেন, তিনি সহ দলের মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছেন:
রাঘব চাড্ডা
স্বাতী মালিওয়াল
হরভজন সিং
সন্দীপ পাঠক
অশোক মিত্তল
রাজিন্দর গুপ্ত
বিক্রম সাহানি
কেন এই বিদ্রোহ? রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশ কিছুদিন ধরেই আপ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দলের সাংসদদের দূরত্ব বাড়ছিল। সম্প্রতি রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভার উপ-দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অশোক মিত্তলকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই অশোক মিত্তলও এবার রাঘবের হাত ধরে দল ছাড়ছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং রণকৌশল নিয়ে অসন্তোষই এই বিদ্রোহের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যসভার সমীকরণে বড় বদল: রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদ ছিল, যাদের মধ্যে অধিকাংশই পঞ্জাবের। একসঙ্গে ৭ জন চলে গেলে কেজরীওয়ালের হাতে পড়ে থাকবে মাত্র ৩ জন সাংসদ। অন্যদিকে, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় বিজেপি এখনও কিছুটা পিছিয়ে ছিল। এই সাতজন যোগ দিলে উচ্চকক্ষেও একক আধিপত্য কায়েম করবে গেরুয়া শিবির।
অস্তিত্ব সংকটে কেজরীওয়াল: দিল্লি এবং পঞ্জাব—দুই রাজ্যেই আপ সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু জাতীয় স্তরে দলের এই ভাঙন কেজরীওয়ালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে ভোটের মুখে এই গণ-ইস্তফা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA) জন্যেও বড় ধাক্কা।
“দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” — ঘনিষ্ঠ মহলে রাঘব চাড্ডা।
এখন দেখার, এই ভাঙন রোখার শেষ চেষ্টা হিসেবে কেজরীওয়াল কোনও ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেন নাকি আম আদমি পার্টির দুর্গে চূড়ান্ত পতন ঘটে।





