ক্রিকেট বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস, যখন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ সচিন তেন্ডুলকর। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে এসে সেই অবসর নিয়ে উঠল এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন— সচিন কি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন, নাকি বিসিসিআই তাঁকে বাধ্য করেছিল? সম্প্রতি ক্রিকেট মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, তৎকালীন নির্বাচক কমিটি এবং বোর্ড কর্তাদের প্রচ্ছন্ন চাপেই নাকি ক্রিকেট ঈশ্বরকে অবসরের পথে হাঁটতে হয়েছিল।
সূত্রের খবর, ২০১২-১৩ মরসুমে সচিনের ফর্ম নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যদিও সচিন চেয়েছিলেন আরও কিছুদিন খেলে নিজের ২০০তম টেস্টের মাইলফলকটি স্মরণীয় করে রাখতে। কিন্তু বোর্ডের অন্দরে তখন তরুণ তুর্কিদের জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল। কথিত আছে, তৎকালীন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল সচিনের সঙ্গে দেখা করে বোর্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরোক্ষভাবে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, নির্বাচকরা এবার নতুনদের দিকে তাকাতে চাইছেন। এই ‘ইঙ্গিত’ পাওয়ার পরেই সচিন সম্মান বজায় রেখে নিজের অবসরের ঘোষণা করেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই খবরটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, সচিন তেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তিকে এভাবে অবসরের দিকে ঠেলে দেওয়া ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অসম্মানজনক। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে তৎকালীন সময়ে বা বর্তমানে এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়নি। সচিন নিজেও তাঁর আত্মজীবনীতে বা কোনো সাক্ষাৎকারে সরাসরি বোর্ডের চাপের কথা বলেননি। তবুও ক্রিকেট অলিন্দে এই বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি সচিনকে সেই সময় চাপ না দেওয়া হতো, তবে কি তিনি আরও কয়েক বছর ভারতের জার্সিতে শাসন করতে পারতেন? উত্তর হয়তো সময়ের গর্ভে, কিন্তু বিতর্কটা রয়েই গেল।