বিষে ভরে উঠল কলকাতার বাতাস! কালীপুজোর রাতে বেপরোয়া শব্দবাজির দাপট, হাসপাতালগুলিতে বাড়ল রোগীর ভিড়

দীপাবলি ও কালীপুজোর রাতে আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়াল বিষাক্ত ধোঁয়া ও শব্দ-দূষণের দাপট। সোমবার রাতে আতসবাজি ও শব্দবাজির (Firecrackers in Diwali) দৌলতে কলকাতার আকাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শহরের বাতাস বিষে ভরে ওঠায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় অনেকেরই।

বেহালা থেকে নিউটাউন, নিষিদ্ধ বাজির দাপট

কলকাতার একাধিক এলাকায় বেপরোয়া ভাবে শব্দবাজি ফাটানো হয়েছে, যেগুলির অধিকাংশই নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত। বিশেষ করে বেহালা, জোকা, সাঁতরাগাছি, টালিগঞ্জ, বেলঘরিয়া, কামারহাটি, দমদম, সল্টলেক, বাগুইআটি এবং নিউটাউনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে অনেক প্রবীণ ও শিশুর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় শহরের হাসপাতালগুলিতে রোগীর ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে।

দূষণ আশঙ্কাজনক, তবুও আশার আলো দেখাচ্ছে পুলিশ

এই রাতের দূষণের ফলে বাতাসে PM2.5 ও PM10-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে আশঙ্কাজনক জায়গায় পৌঁছায়। পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই মাত্রার দূষণ হৃদরোগ, ফুসফুসের অসুখ এবং শিশুদের শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ হতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছেন কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মা। তিনি দাবি করেন, অন্যান্য মেট্রো শহরের তুলনায় কলকাতায় দূষণের প্রভাব কিছুটা হলেও কম। তিনি বলেন, “আমরা কালীপুজোর আগেই সমস্ত থানাকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। কোথাও যদি বেআইনি বাজি মজুত বা বিক্রি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।”

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কালীপুজোর আগে একাধিক সমন্বয় বৈঠক, অভিযান এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ও পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। যদিও পরিবেশপ্রেমীদের মতে, পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও দূষণের যে মাত্রা এবার লক্ষ্য করা গেছে, তা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy