বিশ্বের সুপারপাওয়ারের পতন? খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে যে ৪টি টুকরোয় ভাঙছে গ্রেট ব্রিটেন!

বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে দাপিয়ে বেড়ানো গ্রেট ব্রিটেন কি এবার পুরোপুরি ভেঙে টুকরো টুকরো হতে চলেছে? গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের একটি ঐতিহাসিক বৈঠকে ইউনাইটেড কিংডমের চারটি অঞ্চলের মধ্যে তিনটি—স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা এক টেবিলে বসে একটি সমঝোতা পত্রে সই করেছেন। এই চুক্তির মূল বার্তা স্পষ্ট: তাঁরা আর লন্ডনের দাদাগিরি সহ্য না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চান। একসময়ের ‘যে সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যেত না’, আজ সেই ইউকে-র অন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহ। গত এক দশকে পরপর সাতজন প্রধানমন্ত্রী বদল, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি এবং ধনী নাগরিকদের দেশ ছাড়ার হিড়িক বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বর্তমান ব্রিটেন গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, যাকে আমরা এক দেশ হিসেবে জানি, সেই যুক্তরাজ্য আসলে চারটি ভিন্ন অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত—ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন হঠাৎ এই দেশগুলি আলাদা হতে চাইছে? ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯ শতকে বিশ্বের ২৫ শতাংশ জমির ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়েছিল মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই। সুয়েজ সংকট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন ব্রিটিশ শক্তির ভিত একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহামের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সংক্রান্ত ইন্ধন জোগানো আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। স্কটিশ ফার্স্ট মন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন যে বার্নহামই হতে চলেছেন ইউকে-র শেষ প্রধানমন্ত্রী।
এই সম্ভাব্য বিভাজন শুধু ইউরোপের রাজনীতিকেই ওলটপালট করে দেবে না, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে ভারতের ওপরও। প্রথমত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি আরও জোরালো হবে, কারণ একটি দুর্বল ও সংকুচিত ব্রিটেন বিশ্বমঞ্চে নিজের পুরানো প্রভাব হারিয়ে ফেলবে। দ্বিতীয়ত, লন্ডন ছাড়াও এডিনবরা ও কার্ডিফের মতো শহরগুলির সঙ্গে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে নয়াদিল্লিকে। তবে একই সঙ্গে বৈশ্বিক স্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি মাথাচাড়া দিতে পারে, যা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে ভারতকে। সব মিলিয়ে, ইতিহাসের পাতায় এক নতুন মোড় নিতে চলেছে আধুনিক বিশ্বের ভূরাজনীতি।